লক্ষ্মীপুরে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট শ্রমিকদের বিক্ষোভ

sromic anddholan

মো:ইমাম উদ্দিন সুমন,সময়ের কণ্ঠস্বর: লক্ষ্মীপুরে সিএনজি অটোরিক্সা থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট মালিক, চালক ও শ্রমিকরা। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঝুমুর সিনেমা হল, কালীবাজার সড়ক, দক্ষিন তেমহুনীসহ বিভিন্ন স্থানে যানবাহন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করে সিএনজি অটোরিক্সা চালক ও শ্রমিকরা।

সেলিম উদ্দিন, কালা মিয়া, সালাউদ্দিন, মোসলেম মিয়াসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানায়, লক্ষ্মীপুর- চন্দ্রগঞ্জ, রামগতি, রায়পুর ও রামগঞ্জ সড়কে সিএনজি অটোরিক্সা চলতে হলে প্রতিদিন প্রতি সিএনজি ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কয়েকটি স্পটে চাঁদা দিতে হয়।

এছাড়াও পুলিশের নামে মাসোহারা ২শ থেকে ৩শ টাকা আদায় করা হয়। চাঁদা দিতে দেরি হলে গাড়ি আটক ও চালকদের মারধর করে। বিশেষ করে এসব চাঁদা আদায়ের নেতৃত্বে রয়েছে উত্তর তেমুহানীর চৌধুরী মিয়া প্রকাশ লেভার চৌধুরী, দক্ষিন তেমহনী মিজান, ঝুমুর সিনেমা হল এলাকায় বেলাল হোসেন ও জকসিন বাজার এলাকায় ইউুসফও চরুরহিতার লেয়াকতসহ বেশ কয়েকজন চাঁদাবাজ।

সিএনজি চালকরা আরো জানান, চাঁদা ও গাড়ি মালিকের জমা টাকা দেয়ার পর আর কিছুই থাকেনা তাদের। এতে করে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। ট্রাফিক পুলিশকেও দিতে হয় র্নিধারিত হারে। বাধ্য হয়ে এসব চাঁদাবাজি বন্ধে আন্দোলনে নেমেছি আমরা। অন্যথায় আরো কঠোর কর্মসুচির হুমকি দেন তারা।

অপরদিকে গাড়ির মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, বিআরটিএর গাফিলতির কারনে সিএনজি রেজিষ্ট্রশন করতে দিনের পর দিন মাসের পর এবং বছরও চলে যায়। কিন্তু রেজিষ্ট্রেশন পাওয়া যাচ্ছেনা। পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসন্সের বেলায় একই অবস্থা ।
সড়কে নতুন গাড়ি নামানোর আগে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় চৌধুরী মিয়া প্রকাশ লেভার চৌধুরীর কাছে ভর্তি করাতে হয়। তাদের চাহিদা পুরুন না করে সড়কে গেলে পুলিশ গাড়ি আটকিয়ে মামলা ও জরিমানা আদায় করছে।

দ্রুত এসব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সামনে আরো বড় ধরনের ক্ষতির সম্মখিুন হতে হবে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের।

লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বিআরটিএর হয়রানীর কথা অস্বীকার বলেন, এ জেলায় প্রায় ১০ হাজারেও বেশি সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল করে। এর মধ্যে ৭ হাজার ২শ সিএনজির রেজিষ্ট্রেশন রয়েছে। বাকী যেসব সিএনজি সড়কে চলাচল করে, তাদের কোনটিরও রেজিস্ট্রেশন নেই বলে দাবী করেন তিনি। এসব চালকদের মধ্যে গুটি কয়েক চালক ছাড়া বাকীদের কোন লাইসন্সে নেই।

শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পেয়ে লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার আসম মাহাতাব উদ্দিন সোমবার সকালে ঝুমুর সিনেমা হল এলাকায় গেলে সিএনজি চালকরা অভিযোগ করে বলেন, লেভার চৌধুরী, বেলাল হোসেন, ইউসুফসহ বেশ কয়েকজন চাঁদাবাজ পুলিশের কথা বলে প্রতিদিন ২শ থেকে আড়াইশ টাকা ও প্রতিমাসে ৩শ টাকা হারে তাদের কাছ চাঁদা আদায় করে। চাঁদা না দিলে মারধর করাসহ নানা হয়রানী করা হয় তাদের।

এ সময় চাঁদা আদায়ের টোকেনও দেখানো হয় পুলিশ সুপারকে। পরে পুলিশ সুপার আসম মাহাতাব উদ্দিন চাঁদা না দেয়ার নিদের্শ দেন এবং পরিবহন খাতে কোন চাঁদাবাজি চলবে বলে হুশিয়ারী দেন তিনি। এসব বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা বলেও তিনি জানান ।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views