‘সন্তান-সম্ভবা ইউএনও’কে ওএসডি করায় আমি লজ্জিত’- শামীম ওসমান

১১:৩৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯ ঢাকা
osman

সময়ের কণ্ঠস্বর: সোমবার রাতে একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় এমপি শামীম ওসমান সদর উপজেলার ইউএনও হোসনে আরা বেগমকে ওএসডি করায় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর আগে, পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অন্তঃসত্ত্বা ইউএনওকে ওএসডি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাবেক নারী ও শিশু প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী।

পরে এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, বিষয়টিতে আমি লজ্জিত। কেননা ঘটনাটি আমার নির্বাচনী এলাকায়। তিনি আমার এলাকার সদরের ইউএনও। একজন সৎ কর্মজীবী অত্যন্ত কর্মঠ ভাল একজন কর্মকর্তা হিসেবে উনি আমার কাছে বার বার প্রতীয়মান হয়েছেন।

এসময় উভয় সংসদ সদস্য ওই ইউএনও’কে ওএসডি করার কারণ জানতে চেয়েএকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

শামীম ওসমান বলেন , নির্বাচনে ঠিক আগ মুহূর্তে যখন অনেকেই চান তাদের পছন্দমত লোক বসাতে তখন আমাকেও বলা হয়েছিল। আমি সেই সময় মেয়েটিকে বলেছিলাম আপনি পারবেন কি না? তখন সে ৪-৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

তখন সে বলেছিল আমি কাজটি করতে পারলে সুস্থ থাকব। তখন আমি তাকে একজন ভাই হিসেবে বলেছিলাম আপনি কাজ করতে পারেন। তবে এক শর্তে, অধিক কাজ করবেন না। এই বাচ্চাটা ৯ মাসের চেষ্টার ফসল।

তিনি আরও বলেন, আমি জানতে চাই কার নির্দেশে তাকে ওএসডি করা হলো। বদলি করলে একটা কথা ছিল। ওএসডি করার পর বাচ্চা প্রসব করল সেই বাচ্চাটির যে অবস্থা আমি শঙ্কিত। বাচ্চাটি বাঁচবে কি না? যদি খারাপ কিছু হয় তাহলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না।

মেহের আফরোজ চুমকী বলেন, আজকের পত্রিকার মাধ্যমে দেখলাম একজন নারী ইউএনও এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন মা হওয়াটাই অপরাধ। সেই নারী ইউএনও দীর্ঘ ৯ বছর পর মা হতে যাচ্ছিল।

তিনি বলেন, সেই নারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কাজের কোন গাফিলতি ছিল না। বরং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রশংসা করেছেন।

তার সন্তান প্রসব করার সময় ছিল আগামী এপ্রিল মাসে। কিন্তু সে যখন ডাক্তার দেখাতে গেছে তখন সে আকস্মিক জানতে পারেন তাকে ওএসডি করা হয়েছে। সেদিন ওএসডি হওয়ার খবর শুনে তাৎক্ষণিক মানসিক চাপে তার সে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

অকালপক্ব সন্তান প্রসব করায় বাচ্চাটা এখন মৃত্যু পথযাত্রী। দীর্ঘ ৯ বছর পর মা হওয়ার আকাঙ্ক্ষাটা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। সে যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকে তাহলে একজন সন্তান সম্ভাব্য নারীকে কেন ওএসডি করা হলো। এ ঘটনায় আমি বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।

প্রসঙ্গত, ইউএনও হিসেবে যোগ দেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি হোসনে আরাকে ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সন্তানসম্ভবা ওই কর্মকর্তা খবরটা পাওয়ার পরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অক্সিজেন সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয় অনাগত সন্তানের। ভর্তি হন হাসপাতালে। দেরি না করে ডাক্তার করেন সিজার। জন্ম নেয় ইমম্যাচিউর এক শিশু। ঠাঁই হয় এনআইসিইউতে। এখন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ওই শিশুটি।