সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ডাকবাংলোয় আটকে রেখে তরুণীকে গণধষর্ণ করল দুই পুলিশ!

১২:১৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর,  মানিকগঞ্জ ::  জেলার  সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডাকবাংলোয় আটকে রেখে তরুণীকে ধষর্ণ ও জোড় করে ইয়াবা সেবন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন পুলিশের তদন্ত কমিটি।

নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী সোমবার রাতে সাটুরিয়া থানায় অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

মামলার আসামি হচ্ছেন সাটুরিয়া থানায় উপপুলিশ পরিদর্শক সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপপুলিশ পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম।

জানা গেছে, রোববার পুলিশ সুপারের কাছে নির্যাতনের শিকার ওই তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান ও ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হামিদুর রহমান সিদ্দীকী সোমবার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেন।

মানিকগঞ্জ সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান জানান, সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় নিয়ে সোমবার তদন্ত করা হয়। তদন্ত কমিটির কাছে নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী তার ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দেন। দিনভর প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে ওই তরুণীর পুলিশ সুপারের কাছে যে অভিযোগ করেছেন তার সত্যতা রয়েছে। এ ব্যাপারের ওই তরুণী সাটুরিয়া থানায় উপপুলিশ পরিদর্শক সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপপুলিশ পরিদর্শক মাজহরুল ইসলামকে আসামী করে মামলা করেছেন।

তিনি জানান, মামলাটি তদন্ত করবেন সাটুরিয়া থানার (ওসি তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ। ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণের জন্য ওই তরুণীর মেডিকেল পরীক্ষাসহ প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করা হবে। অপরাধীকে পুলিশ সদস্য হিসেবে দেখার কোন সুযোগ নেই। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

সাটুরিয়া অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুর ইসলাম জানান, ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী বাদি হয়ে সাটুরিয়া থানায় উপপুলিশ পরিদর্শক সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপপুলিশ পরিদর্শক মাজহারু ইসলামকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামীরা বর্তমানে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত রয়েছেন। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ বিরুদ্ধে এক তরুণীকে ধর্ষনের অভিযোগের মামলা হওয়ার পর রাতেই ওই তরুণীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক লুৎফর রহমান জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ওই তরুণীর ডাক্তারী পরীক্ষা হয়। ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর ডাক্তারী পরীক্ষার সময় তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গাইনী কন্সালটেন্ট নাসিমা আক্তার, তদন্ত সার্জেন্ট ডাক্তার রফিকুল ইসলাম, রেডিওলজিষ্ট ডাক্তার হেলাল উদ্দিন ভূইয়া। এই মেডিকেল বোর্ড দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি রিপোর্ট দেবেন।

মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান জানান, সোমবার রাতেই ওই তরুণীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর সে বাড়ি চলে গেছে।