• আজ ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইউএনও বীনাকে ওএসডি করায় কোনো অন্যায় হয়নি: সচিব

১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ
Image

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- সন্তানসম্ভবা এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ওএসডির পর ফেসবুকে তার পোস্ট নিয়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে জনপ্রশাসনে।

সন্তানসম্ভবা হওয়ায় ‘একজন বিশেষ কর্মকর্তা’ তাকে বিভিন্ন মহলে ‘অযোগ্য’ হিসেবে উপস্থাপন করে বদলির পাঁয়তারা করছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সদ্য সাবেক ইউএনও হোসেনে আরা বেগম বীনা।

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩০তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বলছেন, ওএসডির খবর শুনে ‘প্রচণ্ড মানসিক চাপে তার ফুসফুসের রক্ত চলাচল অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায়’ অস্ত্রোপচার করে প্রিম্যাচিউর সন্তানের জন্ম হয়; যে শিশুটি স্কয়ার হাসপাতালের এনআইসিইউতে আছে।

গত শনিবার তিনি ফেসবুক পোস্টে এই অভিযোগ তোলার পর সারা দেশে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলছেন, তার ‘ভালোর’ জন্যই ওই নারী কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।

সোমবার জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘কিছুদিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় অবহিত হয়েছে। মেয়েটি গর্ভবতী কিন্তু অসুস্থ। যখন আদেশটি হয় তখন আমি ওমরায়। ঘটনা শুনে আমি অফিসারদের ডাকি কী কারণে হয়েছে। উপ-সচিব পর্যন্ত সব সিদ্ধান্ত এপিডি (নিয়োগ পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব) নিতে পারেন এবং উনি এটা করেন।’

ফয়েজ আহম্মদ বলেন, ‘মন্ত্রণালয় মনে করেছে যে সামনে নির্বাচন কিন্তু চ্যালেঞ্জিং। আর সাধারণত গর্ভাবস্থার প্রথম সময়টা এবং শেষ সময়টায় প্রবলেম হয়, মাঝখানটা ভালো থাকে। মেয়েটা নিজেই স্বীকার করেছেন উনি অ্যাজমার রোগী এবং ঢাকায় চেকআপে যান।’

তিনি বলেন, ‘এই মায়ের প্রতি এবং তার বাচ্চার প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা এবং পুরো ভালোবাসা রয়েছে। এই বিবেচনায় মনে করা হয়েছে যে চ্যালেঞ্জিং জবের সময় যদি এই চাপ তার অসুস্থতা আরও বাড়িয়ে দেয় এজন্য তাকে ওএসডি করে ঢাকায় রাখা হয়েছে এবং তিনি ঢাকায় ট্রিটমেন্টে আছেন।’

নির্বাচনের সময় একটা উপজেলা খালি রাখা সম্ভব কি-না প্রশ্ন রেখে সচিব বলেন, ‘তার যদি এতই আগ্রহ থাকে তবে মাতৃত্বকালীন ছুটির পর তাকে আবার ওই দায়িত্বে পাঠাব।’

তিনি বলেন, ‘বদলির এখতিয়ার এপিডির হাতে, যদি অবিচার হয়ে থাকে সে সচিবের কাছে আসতে পারে। মন্ত্রণালয় ভালো করছে না বলে মনে করলে তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। মুখ্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সেই সুযোগ ছিল।’

‘বাস্তবতা হলো, যেখানে বিধিবদ্ধ অথরিটি আছে সেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এটি কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে আমি জানি না’-যোগ করেন ফয়েজ আহম্মদ।

সচিব আরও বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তিনি নিজে নিজে এটা করেছেন কি-না, আমি সন্দেহ পোষণ করি। তাকে কেউ বিপথগ্রস্ত করার জন্য করল কি-না? আমাদের অথরিটিকে কেউ অসম্মান করার জন্য কেউ করেছে কি-না আই ডোন্ট নো।’

মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে এ বিষয়ে বলেন, ‘এটা তার (ইউএনও) পানিশমেন্ট নয়। তার তো অপরাধ নেই। তার ভালোর জন্যই এটা করা হয়েছে। অনেকদিন পর সন্তান হচ্ছে, তার বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। সে তো নিজেই ছুটিতে যাবে। আমরা তাকে সাহায্য করেছি।’