স্বামী-স্ত্রী সর্বোচ্চ কতদিন কথা না বলে থাকা জায়েয?

১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯ ইসলাম
Imge009

ইসলাম ডেস্ক- বৈবাহিক সম্পর্ক স্থিতিশীল ও ফলপ্রসূ হওয়ার জন্য স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের বিশ্বস্ততা, সহযোগিতা, সহানুভূতি, ত্যাগ-তিতিক্ষা, ইজ্জত-সম্মান এবং প্রেম-ভালোবাসার মুখাপেক্ষী। রাসুল (সা.)-এর বৈবাহিক জীবনে এসবের ছাপ গভীরভাবে লক্ষ করা যায়। রাসুল (সা.)-এর আচার-আচরণ, চাল-চলন নিজের জীবন সঙ্গিনীর সঙ্গে সহানুভূতি ও স্নেহময় ছিল।

তবু আমাদের সমাজে সাংসারিক জীবনে মান অভিমান একটি সাধারণ বিষয়। কখনো হয় মতের অমিল থেকে, কখনো হয় শাসনের প্রয়োজনে। অথবা ঘটে যাওয়া যেকোনো ভুল থেকে বা ভুল বুঝাবুঝি থেকেও মনে জেঁকে বসতে পারে রাগ-অভিমান। কিন্তু, একটি সুন্দর জীবনের প্রয়োজনে পরিমিত সময়ের বেশি এসবকে জিইয়ে রাখা মুমিনের জন্য নিষিদ্ধ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- لاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثٍ فَمَنْ هَجَرَ فَوْقَ ثَلاَثٍ فَمَاتَ دَخَلَ النَّارَ

অর্থ : রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোন মুসলমানের জন্য তিনদিনের বেশী তার (দ্বীনী) ভাইকে পরিত্যাগ করা বৈধ নয়। কেউ তিন দিনের বেশী পরিত্যাগ করে মৃত্যুবরণ করলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।–সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ৪৯১৬

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ يَلْتَقِيَانِ فَيُعْرِضُ هَذَا وَيُعْرِضُ هَذَا وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ

অর্থ: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, কারো জন্য হালাল নয় যে, সে তিন দিনের বেশী তার (দ্বীনী) ভাইকে এমনভাবে পরিত্যাগ করবে যে, দুজনের সাক্ষাত হলে একজন এদিকে অন্যজন সেদিকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। তাদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তি যে সর্বপ্রথম সালাম দেয়।–সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬০৭৭

এ হাদীসদ্বয়ে ভাই বলে সাধারণভাবে সকল মুসলমান উদ্দেশ্য। কাজেই কখনো স্ত্রীর উপর কোন বিষয়ে অভিমান করে কথা না বললে লক্ষ্য রাখতে হবে তা যেন তিন দিনের বেশি না হয়। আর স্বামী-স্ত্রীর যে আগে সালাম দিয়ে কথা শুরু করবে, সেই সর্বোত্তম বলে বিবেচিত হবে।

স্বামী স্ত্রীর যৌথ প্রচেষ্টায় সংসার ও সমাজ জীবন  সুন্দর ভাবে গড়ে ওঠে।  কোরআন মাজীদ বিশ্ব মানবতাকে জানিয়ে দিচ্ছে যে, জীবনের সব রকম তৎপরতা ও উত্থান পতনের ক্ষেত্রে  সর্বদাই নারী ও পুরুষ  পরস্পরকে  সহযোগিতা করছে। ঊভয়ে মিলে জীবনের কঠিন ভার বহন করছে এবং ঊভয়ের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সভ্যতা ও তমদ্দুনের ক্রমবিকাশ ঘটছে। আল্লাহর ঘোষণাঃ আর মুমিন  পুরুষ ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু । তারা ভাল কাজের আদেশ দেয় . মন্দ কাজ করতে নিষেধ করে। ( আত্ তওবা- ৭১)