অপরাধ জগৎ নিয়ে তৈরি যেকোন সিনেমার গল্পকে হার মানাবে চট্টগ্রামের এই ঘটনা!

Img00908

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বাবার অনুপস্থিতিতে সৎ মাকে ধর্ষণের পর অপহরণ করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় সন্তানরা। এরপর অসহায় ওই মহিলার কাছ থেকে দুই হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে মাদক মামলায় চালান দেয়া হয় আদালতে।

এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে গোয়েন্দা পুলিশ ও পিবিআইয়ের অধিকতর তদন্তে। তবে এখনো অপরাধীরা ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে। বরং জীবন বাঁচাতে নির্যাতিত ওই মহিলা ও তার স্বামী এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অপরাধ জগৎ নিয়ে তৈরি যে কোন সিনেমার গল্পকে হার মানানো চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায়।

গেল বছরের ২৯ আগস্ট সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতেই স্বামীর প্রথম পক্ষের সন্তান ও তার সহযোগীদের হাতে ধর্ষণের শিকার হন এই নারী। এরপর দুর্বৃত্তরা তাকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে চলন্ত গাড়িতেই কয়েক ঘন্টা ধরে নির্যাতন চালিয়ে ফেলে যায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকায়। কিছু সময়ের মধ্যেই আসে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতিতে অসহায় ওই নারীর মনে ন্যায় বিচারের আশা জাগে। কিন্তু থানায় একদিন আটকে রেখে দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে আদালতে চালান দেয়া হলে-সে স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায়। চারমাস কারাভোগের পর জামিনে বের হলেও দু:সহ সেই নির্যাতনের স্মৃতি তাড়া করে ফেরে তাকে।

এই ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই আলাদাভাবে তদন্ত করে। তদন্তে নির্যাতিত নারীর স্বামীর প্রথমপক্ষের সন্তান কামরুল হাসান খোকন, সিতাকুণ্ড থানার তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার হাসান , এসআই সিরাজ মিয়া ও এএসআই জাকির হোসেনসহ অন্তত ১২ জনের সংশ্লিষ্টতা পায়। কিন্তু তারা সবাই এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে।

নির্যাতিতা ওই নারী বলেন, ‘আমাকে তারা কিডনাপ করছে, ধর্ষণ করছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে চার মাস আমাকে জেল খাটিয়েছে। আমি এটার উপযুক্ত বিচার চাই।‘

প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সন্তানরা দেখাশোনা না করায় ওই নারীকে বিয়ে করেন নাছির আহমেদ। তাই প্রতিহিংসাবশত এ ঘটনা ঘটিয়েছে সন্তানরা। এমনটি জানিয়েছেন মামলার বাদী ও গৃহবধূর স্বামী নাছির আহমেদ। তিনি আরও বলেন, ‘আসামিরা আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি ঘরের বাইরে পাঁচ মাস। আমি বাসায় যেতে পারছি না।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখানে যদি কোনো পুলিশ সদস্যের গাফিলতি দেখা যায় তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে, বহাল তবিয়তেই আছেন ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য। ধরাছোঁয়ার বাইরে অন্য আসামিরাও। তাই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ও তার স্বামী।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views