হত্যার পর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর লাশ শ্বশুরবাড়ি পাঠালেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান

১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কন্ঠস্বর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: স্ত্রীর মরদেহ সৎকারের ব্যবস্থা না করে প্রতিবেশীদের দিয়ে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়েছেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মানিক কুমার দেব।

চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই নারীর মৃত্যু হয়।

নিহতের নাম লিপি নারী দেব। তিনি জেলার নাসিরনগর উপজেলার সদরের দত্তপাড়া এলাকার তুলসি রঞ্জন দেবের মেয়ে।

নিহতের বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, মানিক তার স্ত্রী লিপিকে হত্যা করেছেন। পরে মরদেহ নিজেদের বাড়িতে না রেখে পারিবারের কাউকে না পাঠিয়ে প্রতিবেশীকে দিয়ে নাসিরনগরে পাঠিয়েছেন।

লিপির পরিবারের লোকজন বলেন, ১২ বছর আগে অষ্টগ্রাম উপজেলার দুর্গামোহন দেবের ছেলে মানিকের সঙ্গে লিপির বিয়ে হয়। তাদের মগ্ন কুমার দেব নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল। প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। শুক্রবার বিকেলে বাড়ির রাস্তা নিয়ে মানিকের বোনদের সঙ্গে লিপির ঝগড়া হয়। এ নিয়ে মানিক বোনদের পক্ষ নেন। এক পর্যায়ে লিপির গলা চেপে ধরেন মানিক। পরে মানিক ঘরে স্ত্রীকে মারধর করে হত্যা করেন।

নিহত লিপির বড় ভাই চন্দন দেব অভিযোগ করে বলেন, মানিক প্রায়ই পারিবারিক কলহ নিয়ে লিপিকে মারধর করতো। শুক্রবার বিকেলে তাকে হত্যা করে স্পিডবোটে করে এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে মরদেহ নাসিরনগরে পাঠিয়েছে সে।

অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে মানিক কুমার দেবের মোবাইলে ফোন করলে তার চাচাতো ভাই বিদ্যুৎ কুমার দেব রিসিভ করেন। তিনি বলেন, মানিক অসুস্থ, লিপিও দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এ কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি।