সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জলবসন্ত বা চিকেন পক্সের লক্ষণ ও করণীয়

১১:৫০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯ আপনার স্বাস্থ্য
jol-bosonto

স্বাস্থ্য ডেস্ক: জলবসন্ত বা চিকেন পক্স একটি অতি সংক্রমক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত শীতের শেষে এবং বসন্তের শুরুতে এই রোগ বেশি হয়। শিশুদের মধ্যে এই রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি। ৯০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে ১০ বছরের মধ্যে জলবসন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত একবার চিকেন পক্স হলে পুনরায় রোগটি হতে দেখা যায় না।

জলবসন্তের লক্ষণ:

জলবসন্ত হলে শরীরে উচ্চমাত্রার জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা প্রভৃতি হয়। জ্বর হওয়ার এক-দুদিনের মধ্যে গায়ে র‍্যাশ হতে দেখা যায়। এই র‍্যাশ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চলে যেতে থাকে। এটি বেশ চুলকায়। প্রথমে একটু দাগের মতো থাকে। তারপর সেটি ব্লিস্টারের মতো হয়ে যায়। ব্লিস্টার হচ্ছে বড় ঘামাচির মতো দেখতে পানি ভর্তি ফোড়া। ব্লিস্টার শুকিয়ে যায়। ক্ষেত্র বিশেষে পানির পরিবর্তে পুজ হতে দেখা যায়। ব্লিস্টার শুকিয়ে গেলে স্কেব তৈরি হয় এবং তা খসে পড়ে। দাগ পড়া থেকে স্কেব ঝরে যাওয়া পর্যন্ত এক থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে।

জলবসন্তের চিকিৎসা:

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয়। অতিরিক্ত চুলকানোর জন্য অ্যান্টি হিসটামিন-জাতীয় ঔষুধ ব্যবহার করা হয়। কখনো কখনো চিকিৎসকরা ইমুলিয়েন্ট (সুদিং ক্রিম) ক্রিম ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিশেষ ক্ষেত্রে অ্যান্টি ভাইরাল ঔষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

করনীয়:

১। ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করবেন না। হালকা গরম পানিরে গোসল করুন। সবচেয়ে ভাল হয় যদি নিম পাতা সেদ্ধ পানিতে গোসল করতে পারেন।

২। সাবান পানি দিয়ে পক্স ধুতে পারবেন। তবে গা ঘষতে যাবেন না।

৩। এক বালতি হালকা গরম পানিতে ১ কাপ ওটমিল পাউডার ভিজিয়ে রেখে তা দিয়ে গোসল করে নিন। এতে চুলকানি অনেকটাই কমবে। ওটমিলে বিটা গ্লুকোন ও অ্যাভেনানথ্রামাইড রয়েছে যা চুলকানি কমাতে সাহায্য করে। চাইলে বেকিং সোডাও ব্যবহার করতে পারেন।

৪। গোসল শেষে তোয়ালে বেশী চেপে গা মুছতে যাবেন না। যতটা সম্ভব স্বাভাবিক ভাবেই শরীর শুকিয়ে নিন।

৫। চুলকানি কমাতে ওলিভ অয়েল বা ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করুন।

খাবারে সাবধানতা:

১। স্যাচুরেটেড ফ্যাট যুক্ত খাবার যেমন চর্বি যুক্ত মাংস ও ফুল-ফ্যাট দুধ। এতে থাকা ফ্যাট ভ্যারিসেলা ভাইরাসে আক্রান্তের জন্য আমাদের দেহকে তৈরি করে। তাই এই সময় এই ধরণের চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল।

২। আরজিনিন নামের একটি এমাইনো এসিড রয়েছে যা চিকেন পক্সের ভাইরাসকে আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। আরজিনিন যুক্ত খাবারগুল এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। যেমন – চকোলেট, বাদাম এবং বীজ জাতীয় যে কোনও খাবার এই সময় না খাওয়াই ভাল।

প্রতিরোধ:

জলবসন্ত অতিরিক্ত সংক্রমক। তাই এটি প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হচ্ছে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে না যাওয়া এবং রোগাক্রান্ত ব্যক্তির পাশে বেশিক্ষণ অবস্থান না করা। বিশেষ করে ছোট শিশু বা বয়স্করা কোনোভাবেই আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে যাবেন না। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাসায় বিশ্রামে থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের এটি হলে কিছুদিনের জন্য স্কুলে যাওয়া বা বাইরে খেলাধুলা করা বন্ধ করতে হবে।

সতর্কতা:

অনেক সময় জলবসন্তের কারণে শরীরে দাগ হয়ে যায়। এই দাগ রোধ করতে কোনোভাবেই ব্লিস্টারকে ফাটানো যাবে না। তারপরও যদি দাগ দেখা যায়, সেটি সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে চলে যাবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কোলোজেন ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।