‘লাশ’ বাড়ি নেয়ার পথে নড়ে উঠলেন আশাদুজ্জামান!

১:৩৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯ আলোচিত
Img008765087

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- দীর্ঘদিন ধরে হার্টের রোগে ভুগছিলেন আশাদুজ্জামান (৩৫)। রংপুরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মৃত্যুবরণ করেন তিনি। বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় ১ শত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পর রাস্তায় পুনরায় জীবন ফিরে পান আশাদুজ্জামান।

দেশের সর্ব উত্তরের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড়ের সীমান্ত উপজেলা তেঁতুলিয়ায় ‘মৃত’ ঘোষিত হওয়ার পর জীবন ফিরে পাওয়া আশাদুজ্জামান উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের মাগুড়মারি গ্রামের মৃত মশির উদ্দীনের ছেলে।

আশাদুজ্জামানের পরিবার এবং স্থানীয়রা জানান, তিনি সন্তানের বাবা আশাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে হার্টের রোগে ভুগছিলেন। দীর্ঘদিন ঢাকায় গাড়ি চালিয়ে পরে গ্রামের বাড়ি এসে দিনমজুরের কাজ শুরু করেন তিনি। কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন বাজার থেকে চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্য তুলছিলেন আশাদুজ্জামন। বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তেঁতুলিয়ার ভজনপুর বাজারে সাহায্য চাইতে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে তিনি। পরদিন (শুক্রবার) সকালে চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাকে রংপুরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার অবস্থা গুরুতর দেখে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়ে ওষুধ লিখে দেন চিকিৎসক।

কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করানো নিয়ে দিশাহীন হয়ে পড়েন স্বজনরা। কিছুক্ষণ পর রোগীর অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা আশা ছেড়েই দেন। এরপর রমেক হাসপাতালে ভর্তি না করে রাস্তার পাশে এক চিকিৎসককে দেখান। ওই চিকিৎসক আশাদুজ্জামানকে ‘মৃত’ ঘোষণা করেন। পরে দাফনের জন্য তাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন স্বজনরা।

এদিকে খবর পেয়ে গ্রামের বাড়িতে চলতে থাকে দাফনের প্রস্তুতি। কাফনের কাপড় কিনে আনা হয়, কবর খোঁড়া শুরু হয়। তাকে ‘শেষ বারের’ মতো দেখতে বাড়িতে আসতে শুরু করেন প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজনরা।

কিন্তু তাদের বহনকারী গাড়িটি রংপুর থেকে বাড়ি ফেরার সময় পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল বাজারের কাছাকাছি এলে হঠাৎ নড়ে ওঠেন আশাদুজ্জামান। এরপর এ খবর পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

দেবনগড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) রফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি শুনে অবাক হয়েছি। হতদরিদ্র পরিবারটি টাকার অভাবে আশাদুজ্জামানের চিকিৎসা না করাতে পেরে বিপাকে পড়েছিল। বর্তমানে অসুস্থ আশাদুজ্জামান ওই বাড়িতেই রয়েছেন।