নান্দাইলে দালালের খপ্পরে পড়ে প্রসূতির মৃত্যু

২:০০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯ ময়মনসিংহ
nandail

শামছুজ্জামান বাবুল, নান্দাইল প্রতিনিধি: প্রসূতিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতাল গেইটেই দালালের খপ্পরে পড়ে। ডা. তাজুল ইসলামের কথা বলে নিয়ে যায় চেম্বারে। পরে দালাল নিজেরাই বাচ্চা প্রসব করে। অতিরিক্ত রক্ত যাওয়ায় মৃত্যু হয় জিনুআরা (৩২) নামে প্রসূতির। পরে দালালরা দ্রুত পাঠায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত বলে ঘোষণা করে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেইট এলাকায়।

জানা যায়, উপজেলার আচারগাঁও বীরপাড়া এলাকার মৃত আব্দুর রহিমের মেয়ে জিনুআরা। তার স্বামীর বাড়ি একই উপজেলার দাতারাটিয়া গ্রামে। স্বামী ঢাকায় থাকেন। অন্তঃসত্তা হওয়ার সুবাদে কিছুদিন আগে চলে যায় বাবার বাড়ি। প্রসব ব্যথা শুরু হলে জিনুআরার মা হেলেনা বেগম, বড় বোন পারুল আক্তার ও চাচাতো ভাইয়ের বউ পারভিন আক্তার নিয়ে আসেন হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতাল গেইটেই পড়ে দালালের খপ্পরে। দালালদের প্রসবে বাচ্চার কোন ক্ষতি না হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে মা জিনুআরা মারা যায়।

পরে জিনুআরার চাচাতো ভাইয়ের বউ পারভিন আক্তারকে হাসপাতালে লাশের পাশে রেখে নবজাতক ছেলে সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে চলে যায় তার মা ও বড় বোন।

এদিকে দালালদের একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যায়। পরে সংবাদ পেয়ে নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কোন অভিযোগ না থাকায় চলে যায় পুলিশ। এরপর মহলটি জিনুআরার লাশ তার স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। অপরদিকে নান্দাইল হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে। কবে দালালদের খপ্পর থেকে মুক্তি পাবে হাসপাতাল এলাকা।

হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা নান্দাইল উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক এডভোকেট হাবিবুর রহমান ফকির বলেন, দালাল চক্ররা এর পূর্বেও এ ধরণের আরো অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু ধামাচাপা দিয়ে বারবার পার হয়ে যায়। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। দালাল নির্মুল না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে নাগরিক কমিটি।

নান্দাইল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী এনামুল হক বলেন, তিনি চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এ হাসপাতালে যোগদান করেছেন। দালাল চক্রের তৎপরতার বিষটি তার জানা নেই। দালালদের ব্যাপারে আগামী স্বাস্থ্যসেবা কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা করা হবে।

জিনুআরার স্বামী মোস্তাফা কামালের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খবর পেয়ে ঢাকা থেকে তিনি বাড়িতে এসেছেন। তার শেলক প্রবাসে থাকেন। সাথে পুরুষ কোন লোক না থাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। এই বলে ফোনটি রেখে দেন।

Loading...