সৌদিতে কাজের পারিশ্রমিক চাইলেই গায়ে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন করে!

১:৪৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- তিক্ত অভিজ্ঞতা আর দুর্বিষহ যন্ত্রণা নিয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৬২ জন নারী শ্রমিক। মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া নয়টায় সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তরর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।

ফেরত আসা নারীরা অভিযোগ করেন, তাদের মারধরসহ মানসিক নির্যাতন করা হয়। কাজের বিনিময়ে দেয়া হয়নি পারিশ্রমিক। যেসব এজেন্সির মাধ্যমে তারা সৌদি আরবে গেছেন সেসব এজেন্সির প্রতিনিধিরাও তাদের কোন খোঁজ খবর নেয়নি।

পরবর্তীতে নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেফ হোমে আশ্রয় নেন তারা। তাঁরা আরও জানান, এখনো সৌদি আরবে অনেক বাংলাদেশী নারী রয়েছেন যারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

শুধু নারীরাই নয়, নির্যাতনের শিকার পুরুষরাও। তাদের অভিযোগ, দালালের প্রলোভনে, কাজের আশায় সৌদি গিয়ে, পাননি পারিশ্রমিক। না খেয়েও দিন কাটাতে হয়েছে।

দেশে ফিরে আসা এক নারী বলেন, পাঁচ মাসের মধ্যে এক মাসের বেতন দিয়েছে। বেতন চাইলে মারধর করতো, খেতে দিত না। আরেকজন বলেন, এক মাসের বেতন দিয়েছে। তারপর আর কোন কিছুই দেয়নি। খালি হাতেই আসতে হয়েছে।

আরেক নারী যা বললেন তা রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো। ‘বেতন চাইলেই গায়ে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন করে। আমরা দেশের মা-বোন, তাই নিজেদের বাঁচাতে চলে আসতে হয়েছে।’

নির্যাতিত এসব কর্মী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সৌদির বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফেরেন।

২০১৯ সালেই আড়াই শতাধিক নির্যাতিত শ্রমিক সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরত এসেছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসে অনেক শ্রমিক আশ্রয় নিয়েছেন- জানান আগত নারীকর্মীরা।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ.বি.এম ফরহাদ আল করিম বলেন, ‘৬২ জন নারীকর্মী চলে আসছে। এরা প্রত্যেকেই কোন না কোনভাবে অ্যাবিউসের শিকার হয়েছে। কেউ শারীরিকভাবেও অ্যাবিউস হয়েছে।

এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে দেশে ফেরেন ৩২ নারী কর্মী।