ভাষা শহীদদের জীবনী জাতীয় পাঠ্য পুস্তকে লিপিবদ্ধ দাবি জানিয়েছেন আব্দুস জব্বারের পুত্র

৫:৫১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯ ময়মনসিংহ
jobbar

আব্দুল মান্নান পল্টন, ময়মনসিংহ ব্যুরো: ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের জীবনী স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে জাতীয় পাঠ্য পুস্তকে লিপিবদ্ধ করনসহ বেশ কিছু দাবি জানিয়েছেন শহীদ আব্দুল জব্বারের ছেলে নূরুল ইসলাম বাদল।

ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার পুত্র নুরুল ইসলাম বাদল এ প্রতিবেদককে বলেন, বাংলা একাডেমী ভাষা শহীদদের জন্য সৃষ্টি হলেও তারা শহীদ পরিবার গুলোকে কোন সম্মাননা দেয়নি। এমনকি অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদ পরিবারদের দাওয়াত পর্যন্ত দেয়া হয় না। ভাষা শহীদদের জীবনী জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে লিপিবদ্ধের জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে আবেদন নিবেদন করেও কোন সারা পাওয়া যাচ্ছেনা।

শহীদ আব্দুল জব্বারের গ্রামের বাড়ি গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া (জব্বার নগরে) বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি কলেজ স্থাপনের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসীর। তাই গফরগাঁও পাঁচুয়া (জব্বার নগরে) ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বারের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি কলেজ স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

এ ছাড়াও গফরগাঁও পৌরসভা কার্যালয় সংলগ্ন নির্মানাধীন অডিটরিয়ামটির ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বারের নামে নাম করনের দাবি জানিয়েছেন শহীদ জব্বার পুত্র নুরুল ইসলাম বাদল। গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মাহাবুব উর রহমান জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় একুশে ফেব্রুয়ারি মূল অনুষ্ঠানটি পালিত হবে জব্বার নগরে (পাঁচুয়া গ্রামে)।

২০০৮ইং সালের ১ ফেব্রুয়ারি এডিপির অর্থায়নে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে শহীদ জব্বার স্মৃতি গ্রন্থাগার ও জাদুঘরটি উদ্ভোধন করা হয় গফরগাঁও উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের পাঁচুয়া গ্রামে (জব্বার নগরে)। কিন্তু আট বছর পেরিয়ে গেলেও ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার স্মৃতি গ্রন্থাগার ও জাদুঘরটি আজও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। গেজেটে অন্তর্ভূক্তি হয়নি জব্বার নগর নাম হিসেবে। জাদুঘরটিতে দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক পত্রিকা সরববাহ বন্ধ। ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগারে ৪ হাজার ১৩০টি বই রয়েছে। কিন্তু উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এখানে পাঠকের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। এছাড়াও দর্শনার্থীদের জন্য যাতায়াতের জন্য গ্রন্থাগারের রাস্তা খুবই খারাপ। গ্রন্থাগারে একটি কম্পিউটার সরবরাহ থাকলেও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকার কারণে কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকে সর্বদায়।

ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভাষা শহীদদের স্মৃতি চিহৃযুক্ত সব বই এখনও জাদুঘরে নেই। শহীদ আব্দুল জব্বার স্মৃতি গ্রন্থাগারটি নামে জাদুঘর হলেও শহীদ জব্বারের ছবি ছাড়া ব্যবহৃত কোন বস্ত্র বা জিনিসপত্র এখানে নেই।

ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের পাঁচুয়া গ্রামে (বর্তমানে জব্বার নগর) ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ ও বাংলা ১৩২৬ সালের ২৬শে আশিন জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোঃ হাসেন আলী শেখ। মাতার নাম মোছাঃ সাফাতুন নেছা। আব্দুর জব্বার ১৯৫২ইং সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোষ্টেল প্রাঙ্গনে হাজার হাজার ছাত্র জনতার সমাবেশে যোগ দেন। আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশ গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হয়ে আব্দুল জব্বার গুরুতর আহত হন। পরে ঐ রাতেই (২১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন এবং আজিমপুর কবরাস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

Loading...