সংবাদ শিরোনাম
চাঁদপুরে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ২০১৯-২০ অর্থবছরের বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা | ঈদ উপলক্ষে কক্সবাজারে পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় আগাম সতর্কবার্তা | ঈদ আনন্দ নেই কৃষকদের মনে, বাগেরহাটের মার্কেটে নেই ক্রেতা | ঈদের আগেই ‘ঈদ উপহার’ দিলাম: প্রধানমন্ত্রী | সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ঘুমন্ত শ্রমিকের মৃত্যু | উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ: দফায় দফায় সংঘর্ষ, বিজেপি নেতা গুলিবিদ্ধ | বিমানেই উঠে পড়ছিল দুই রোহিঙ্গা নারী! | তিনগুণ বেশি দামে কাপড় বিক্রি করছে ‘মিমি সুপার মার্কেট’, লাখ টাকা জরিমানা | সেতু, ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী | বসল পদ্মাসেতুর ১৩তম স্প্যান, দৃশ্যমান ২ কিমি |
  • আজ ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চকবাজারে ভয়াবহ আগুনে নিহত অন্তত ৬৯

৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯ Breaking News
Fair

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: ঢাকার চকবাজারে চার তলা একটি বাড়িসহ কয়েকটি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়ার নয় ঘণ্টা পরও তা পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর ৩৭টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে। সকালে হেলিকপ্টারে করে উপর থেকে পানি ছিটানোর পর আগুন আর দেখা যাচ্ছে না।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) এ কে এম শাকিল নেওয়াজ ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও ভেতরে এখনও জ্বলছে। রাসায়নিকসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন পুরো নেভাতে অনেক সময় লাগবে।

চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের ওই ভবনগুলোতে অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভোরের দিকেও দগ্ধ অবস্থায় লোকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ বলেন, উদ্ধারকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর হতাহতের সঠিক তথ্য জানা যাবে।

রাত সাড়ে ৩টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাফিজ নামে একজন তার তিন স্বজনকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, “আমার ভাগ্নি, ভাগ্নির জামাই ও তাদের দুই মেয়ে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। ওদের বড় ছেলেটাকে খুঁজে পেয়েছি। বাচ্চাটার একপাশ পুড়ে গেছে। বাকি তিনজনকে এখনও খুঁজে পাইনি। সব মেডিকেলে খুঁজতেছি, কোথাও পাচ্ছি না।”

স্থানীয়রা জানায়, চুড়িহাট্টা মসজিদের পাশে প্রয়াত ওয়াহিদ চেয়ারম্যানের চার তলা ভবনটিতে প্রথমে আগুন লাগে। তারপর তা পাশের রাজমনি নামে একটি রেস্তোরাঁ এবং সরু রাস্তার উল্টো দিকের তিনটি ভবনে ছড়ায়।

যে ভবনে প্রথম আগুন লাগে, তার নিচতলায় একটি দোকান রয়েছে, দোতলায় রয়েছে বিভিন্ন প্রসাধন-প্লাস্টিক সামগ্রীর গুদাম। উপরের দুটি তলায় রয়েছে বাসা।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, আগুন লাগার পরপরই চার তলা ভবনটির সামনে থাকা বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরণ ঘটে; ওই সময় রাস্তায় থাকা কয়েকটি গাড়িতেও আগুন ধরে যায়।

পুরান ঢাকার ওই সংকীর্ণ সড়কে রাত সাড়ে ১০টায় অগ্নিকাণ্ড শুরুর সময়ও ছিল যানবাহন আর মানুষের ভিড়। তাছাড়া মসজিদের সামনে ফুটপাতের উপর দোকান, আনাস হোটেলের সামনে একটি ফলের দোকান এবং আরও কয়েকটি ভাসমান দোকান ছিল।

মসজিদের উত্তর পাশে, সামনে, দক্ষিণপাশের রাস্তায় ছিল গাড়ি আর চলতি পথের যাত্রীদের ভিড়।

কীভাবে এই আগুন লাগল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এজন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক।

আনাস হোটেলের কর্মচারী সাইদুর রহমান ঘটনার সময় একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, ওই বিস্ফোরণের পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে মোবাইল ফোনের বাতি জ্বালিয়ে তিনি কোনোক্রমে হোটেল থেকে বের হন।

অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনে মোট পাঁচটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাহিনীর মহাপরিচালক আলী আহম্মেদ বলেন, সরু ওই সড়কে ভবনগুলো ঘেঁষাঘেষি করে তৈরি করায় আগুন নেভানোর কাজ করতে বেগ পোহাতে হয় অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মীদের। পাশাপাশি ওই এলাকার দোকান ও গুদামগুলোতে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

নয় বছর আগে পুরান ঢাকার নিমতলীতেও অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল রাসায়নিকের গুদামের কারণে। তাতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন।