• আজ ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আশংকাই যেন সত্যি হলো!

১:৪৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯ ফিচার
Chakbazar

পলাশ মল্লিক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:  বহু পূর্ব থেকেই এমন একটি আশংকা করা হচ্ছিল। তাই যেন সত্যিই হল। শতাধিক প্রাণের প্রদীপ নিভে গেল আগুনেই। জীবন বাচাঁতে যারা আশ্রয় নিয়েছিল নিরাপদ ভবনে, তাদের পুড়ে মরতে হয়েছে সেখানেই। যে ভবন গুলোকে নিরাপদ ভাবা হচ্ছে সেই ভবন গুলোইবা কতটা নিরাপদ?

পুরান ঢাকায় বিশেষ করে ইসলামপুর চকবাজার এলাকায় ভবন গুলো যেভাবে নির্মিত হয়েছে তাতে করে অন্য কোন বিষয় না, খোদ ভবনগুলোই মানুষের জন্য হুমকি! তাছাড়া অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকার কারণে সবসময়ই চকবাজারে সাধারণ মানুষের খুব ভীড় লক্ষ্য করা করা যায়। ফলে যেকোন দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানির আংশকা থেকেই যায়।

রাতের যেসময় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে চকবাজারে তখন ছোট বড় অনেক পণ্যবাহী যানবাহন চকবাজারের রাস্তা দখল করে দাঁড়িয়ে ছিল। ফলে খুব দ্রুত সেখানে হাজির হতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গুলো। আর যেকারণেই নিহত হলেন এত সংখ্যক ব্যবসায়ী, পথচারী, ক্রেতাসহ অনেক শ্রেণীপেশার মানুষ।

যোগাযোগের জন্য ঢাকার অন্যান্য এলাকায় যেধরণের প্রসস্থরাস্তা দেখা যায় বা ভবন গুলোর যে নির্মাণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায় তার কোন কিছুই নেই এ এলাকা গুলোতে। পুরান ঢাকায় এমন কয়েক কিলোমিটার রাস্তা আছে যেখানে দুটি ভবনের মাঝখান দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতো দুরের কথা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাই তাদের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। আর এ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞরা পুরান ঢাকায় বসবাসকারীরা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কোন দুর্ঘটনার শিকার হলে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের আশংকা করছিলেন। বিগত দিনে এবং বর্তমানে চকবাজারের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তাদের সে আশংকাই সত্যি হলো। সঠিক সময়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি এ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকবাজারের নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুরিহাট্টা মসজিদ গলির রাজ্জাক ভবনে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে তবে এর মাঝে বহু প্রাণের প্রদীপ নিভে যায়।

সারাদিন কর্মস্থলে কাজ করে যারা পরিবার পরিজনের কাছে ফেরার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন কয়েকঘন্টার মধ্যেই তারা চিরতরে পরিবার পরিজন ছেড়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। সংসারের উর্পাজনক্ষম লোকটির জন্য হয়তো টেবিলে খাবার সাজিয়ে বসে ছিলেন অনেক পরিবারের সদস্যরা। আর কোনদিন দরজায় কড়া নাড়বে না সেই প্রিয় মানুষটি। যে মানুষটির আয়ে চলতো পরিবারটি তাকে হারিয়ে এখন হয়তো  অনেক পরিবারকেই দুঃখের  আগুনে পুড়তে হবে। এ দায়টি কার?  সরকার, না সেখানে যারা ভবন নির্মাণে সরকারের বেঁধে দেয়া নিয়ম মানছেন না, নাকি পুরো বিষয়টি যাদের নজরদারী করার কথা তাদের?

চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্মম এ ঘটনায় সময়ের কণ্ঠস্বর পরিবারও গভীরভাবে শোকাহত।

Loading...