‘আল্লাহ একি করলা, এত নিষ্ঠুর কিভাবে হইলা’ এমন প্রশ্নের উত্তর দেবে সেই সাধ্য কার?

১০:৩৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯ ফিচার
cbazar

সময়ের কণ্ঠস্বর :: এখনো কান্নায় ভারী চকবাজারের চুড়িহাট্টা। স্বজনের লাশটি এখনও খুঁজে পাননি যারা সেইসব হতভাগ্যের হাহাকারে নির্বাক ওই জনপদ। সন্তানহারা এক মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘কে এনে দেবে একটু ফোঁটা। লাস্টে যদি একটুও থাকতো। আল্লাহ একি করলা? এত নিষ্ঠুর কিভাবে হইলা? ‘ এমন প্রশ্নের উত্তর দেবে সেই সাধ্য কার?

সম্পর্কে তারা দুই বোনই শুধু নন, তারা দু’জন বেয়ানও। দু’বোন নিজেদের ছেলে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন তাও ১০ বছর আগে। চুড়িহাট্টার আগুন শুধু ছেলে মেয়েকেই পোড়ায়নি পুড়িয়েছে ৭ বছরের নাতনিকেও। ঘটনার দিন ওই পথটুকু শুধু ব্যবহার করছিলেন তারা। আর তাতেই এমন সর্বনাশ। বেঁচে আছেন একটু দেহাবশেষ পাওয়ার আশায়।

সন্তানহারা সেই মা বলেন, ‘সরকারের কাছে কোনো আবদার নেই। টাকা পয়সা কিছি চাই না। শুধু একটু বডিটা দিক।’

মাথার ওপর ছায়া হয়ে ছিল যে হাত, এক নিমিষেই সরে গেছে তা। পুড়ে অঙ্গার হয়েছে দুই ভাই ও ভাইয়ের ছেলে। এই চুড়িহাট্টার বাতাসে এখনও যেন মিশে আছেন তারা। তাই বার বার এখানেই ফিরে ফিরে আসা।

একমাত্র ছেলের শোক ব্যানারের দিকে তাকিয়ে আছেন বৃদ্ধ বাবা। বাবার কাঁধেই যে নিতে হয়েছে পৃথিবীর সমান ভারী ছেলের কফিন। সেদিনের দগ্ধস্মৃতি এখনও ঘুমোতে দেয় না অনেককে। তারা বলছেন, অনেক হয়েছে আর নয় রাসায়নিকের সঙ্গে বসবাস।

এদিকে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছে সেবা সংস্থাগুলো। যদিও দুর্ভোগ এখনো কমেনি। কিন্তু মনের গহীনে যে ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে জীবনভর সেই ক্ষত সারবে কী দিয়ে? নিশ্চয়ই সে প্রশ্নেরও উত্তর নেই।

প্রসঙ্গত, বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৮১ জন নিহত হন। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন অর্ধশতাধিকেরও বেশি মানুষ। ঢামেকের বার্ন ইউনিটে থাকা অগ্নিদগ্ধদের দেখতে আজ হাসপাতাল পরিদর্শন এবং আহতদের স্বজনদের সাথে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Loading...