• আজ ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দেশে কমেছে কৃষি ঋণ বিতরণ

১২:১২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯ অর্থনীতি
rine

রাজু আহমেদ, ষ্টাফ রিপোর্টার: দেশে বেসরকারী খাতে কৃষি ঋণ বিতরণের পরিমান উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতে উচ্চ সুদহার ও তারল্য সংকটসহ নানা কারণে ভাটা পড়ার প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতের ঋণ বিতরণেও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ও পল্লী ঋণ বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত অর্থবছরে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছিল ১২ হাজার ৭০২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারী) ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ১২ হাজার ১০১ কোটি টাকা। যা গত অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০১ কোটি টাকা কম।

প্রতি বছর কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ব্যাংক গুলোকে ঋণ বিতরণে বাধ্য করা হলেও বেশির ভাগ কৃষক ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কৃষি ঋণে ব্যাংক গুলোর নানা অনীহাই এর মূল কারন। অন্যান্য খাতের তুলনায় কৃষি ঋণে সুদহার কম হওয়ায় ব্যাংকগুলো এ খাতে অনাগ্রহ দেখায়। অন্যদিকে ঋণ গ্রহণে নানা হয়রানি মামলাসহ নানা কারনে ভয়ে কৃষকরা ব্যাংক বিমুখ হয়ে পড়ছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতরণ হওয়া ঋণ চলতি অর্থ বছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৫৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। আগের অর্থ বছরের একই সময়ের ছিল লক্ষ্যমাত্রার ৬২ দশমিক ২৭ শতাংশ।

জানা গেছে, চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরে ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে (জুলাই-জানুয়ারি) প্রথম সাত মাসে বিতরণ হয়েছে ১২ হাজার ১০১ কোটি টাকা যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৫৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে চেয়ে ৬০১ কোটি টাকা কম। গত অর্থ বছরে একই সময় ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছিল ১২ হাজার ৭০২ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুয়াযী, চলতি অর্থ বছরের জানুয়ারি শেষে কৃষি খাতে মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোর ৩০ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট ৯ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে দেশি বিদেশি খাতের তিনটি ব্যাংক অর্থবছরে কৃষি খাতে কোনো ঋণ বিতরণ করেনি। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও ওরি ব্যাংক। এছাড়া মধুমতি ব্যাংকও কোনো ঋণ বিতরণ করেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের ২ দশমিক ৫ শতাংশ পল্লী অঞ্চলে বিতরণ করতে হবে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে অনার্জিত লক্ষ্যমাত্রার সমপরিমাণ অথবা বিকল্পভাবে অনার্জিত লক্ষ্যমাত্রার ৩ শতাংশ হারে হিসাবায়নকৃত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হবে। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংক সমূহ মোট ২১ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০৫ শতাংশ। বিগত অর্থবছরে মোট ৩৯ লাখ ৬২ হাজার ৫০৮ জন কৃষিঋণ পেয়েছেন, যার মধ্যে ব্যাংক সমূহ নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও এমএফআই লিংকেজের মাধ্যমে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৩৭ জন নারী ছয় হাজার ৩০৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকার কৃষিঋণ পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু সর্বশেষ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। যা ঘোষিত মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম।

কৃষি খাতে ঋণ বিতরনে অনিয়ম গুলো চিহ্নিত করে তা চিরতরে দূরীকরণ করে এই ঋণ গ্রহণে কৃষকদের মনে প্রানে অনুপ্রাণিত করতে হবে। তবেই কৃষি ঋণ বিতরণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো।