• আজ ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সেই বিমান ছিনতাই চেষ্টাকারীর লাশ নিতে আসেননি স্বজনরা

২:১৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯ স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা :: বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজ ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় কমান্ডো অভিযানে নিহত অস্ত্রধারী তরুণের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। লাশ নিতে সোমবার তাঁর কোনো স্বজন মর্গে আসেননি। এই সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তরুণের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায় নগরের পতেঙ্গা থানার পুলিশ। পতেঙ্গা থানার কনস্টেবল শংকর নাথ বলেন, গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে লাশটি মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত তরুণের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন দে।

সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, তরুণের গায়ের রং শ্যামলা। উচ্চতা পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি। তাঁর বুকের দুই পাশে চামড়ায় জখমের দাগ রয়েছে। পাঁজরের বাম পাশে শুকনো রক্তের দাগ। পেটের উপরিভাগে নাভির ২ ইঞ্চি ওপরে ডান পাশে একটি গোলাকার ক্ষতচিহ্ন।

তরুণের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তার মন্তব্য ঘরে লেখা রয়েছে, কমান্ডো অভিযানে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি (তরুণ) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে গিয়ে দেখা যায়, নিহত তরুণের লাশটি পড়ে আছে। সেখানে তাঁর কোনো স্বজনকে পাওয়া যায়নি।

পতেঙ্গা থানার কনস্টেবল শংকর নাথ বলেন, লাশটি মর্গে আনার পর এ পর্যন্ত নিহত তরুণের কোনো স্বজন সেখানে আসেননি।

উড়োজাহাজ ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান পতেঙ্গা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নুরুল আলম চৌধুরী।

ময়ূরপঙ্খী উড়োজাহাজটির (বিজি-১৪৭ ফ্লাইট) ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পরই উড়োজাহাজটি ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে।

প্রায় দুই ঘণ্টার টান টান উত্তেজনার পর উড়োজাহাজ ছিনতাইচেষ্টার অবসান ঘটে। গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাত্র আট মিনিটের কমান্ডো অভিযানে উড়োজাহাজটিতে থাকা অস্ত্রধারী তরুণ নিহত হন।

বিমান ছিনতাই প্রচেষ্টাকারীর নাম রবিবার মাহাদী বলা হলেও সোমবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তার নাম মোঃ পলাশ আহমেদ এবং সে একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের দুধঘাটা এলাকায়। সেখানকার পিয়ার জাহান সর্দারের পুত্র সে। তার বয়স অনুমান ২৬ থেকে ২৭ বছর। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান নিহত পলাশের বিষয়ে বিস্তারিত আর কোন তথ্য দিতে পারেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন প্যাসেঞ্জার লিস্টে ছিনতাই প্রচেষ্টাকারীর নাম ছিল আহমেদ/মোঃ পলাশ।

বোর্ডিং কার্ড অনুযায়ী ফ্লাইটটিতে তার সিট নাম্বার ১৭ এ-১। তিনি আরও জানিয়েছেন, নিহতের আঙ্গুলের ছাপ ক্রিমিনাল ডাটাবেজে থাকা অপরাধীর সঙ্গে মিল রয়েছে। তবে ঠিক কোন ধরনের অপরাধের জন্য এই পলাশের নাম র‌্যাবের ক্রিমিনাল ডাটাবেজে যুক্ত ছিল সে বিষয়ে কোন তথ্য দেয়া হয়নি।