বিমান ছিনতাইচেষ্টাঃ যত রহস্য, প্রশ্ন আর উত্তর …

৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ফিচার ডেস্ক- সিনেমা স্টাইলে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী ২৪ বছর বয়সী যুবক নিহত হয়েছেন কমান্ডো অভিযানে। তার পর থেকেই নাটকীয়তা আর চাঞ্চল্যে ভরা সব তথ্য আসছে গনমাধ্যমে। । সবচেয়ে আলোচিত তথ্যে জানা যাচ্ছে, নায়িকা সিমলার সঙ্গে ওই যুবকের বিয়ে হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে সিমলা অবশ্য গতকাল একটি গণমাধ্যমের কাছে বিয়ের বিষয়টি জানিয়েছেন, চার মাস আগে বিচ্ছেদও হয়ে গেছে।

বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় এখন হাজারো প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে। সাধারণ একটি ঘরের ছেলে পলাশ আহমেদ কেনইবা বিমান ছিনতাই চেষ্টা করতে গেলেন। কোন কোন সুত্র জানাচ্ছেন, পরিবারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন আলোচিত এই যুবক । তবে প্রশ্ন উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে হলে বিমান ছিনতাই করতে হবে কেন?

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কয়েক ধাপের নিরাপত্তা তল্লাশি সংস্থাগুলোকে ফাঁকি দিয়ে অস্ত্র নিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশে করলেন কিভাবে এই যুবক?

বিমানের ভেতরকার ঘটনা নিয়ে আসছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। কেউ কেউ বলছেন, ছিনতাই চেষ্টাকারী বিমানে গুলি করেছিল। আবার কেউ বলছেন, তার সঙ্গে বিস্ফোরকও ছিল। প্রশ্ন উঠে উড়ন্ত বিমানে গুলির ঘটনা ঘটলে সেটি ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারতো। তাছাড়া সংবাদ সম্মেলনে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ঘটনার পর বিমানটি অক্ষত আছে।

তবে এসব প্রশ্নের উত্তরে ঘটনার পর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কুসুম দেওয়ান আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাতাকারে বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তির হাতে থাকা পিস্তলটি ছিল একটি খেলনা পিস্তল। তার শরীরে কোনো বোমাও ছিল না। তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। আমরা শুনেছি স্ত্রীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সমস্যা আছে। সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।

এদিকে প্রথম দিন ঘটনা জানাজানির কিছু সময়ের মধ্যেই কয়েকটি গণমাধ্যম ওই ব্যক্তিকে নায়িকা সিমলার ব্যর্থ প্রেমিক বলে তথ্য প্রচার করে। ওই ব্যক্তির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু জানার আগেই তার সম্পর্কে এমন তথ্য প্রকাশেও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ইতমধ্যে, বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় গতকাল সংসদেও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে কী করে একজন যাত্রী অস্ত্র নিয়ে বিমানের ভেতর পর্যন্ত যেতে পারলেন। এ ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তে সর্বদলীয় কমিটি গঠনেরও দাবি তোলা হয়েছে সংসদে। এদিকে ঘটনার দিন ছিনতাই চেষ্টাকারী ব্যক্তির পরিচয়ের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও গতকাল র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব জানিয়েছে, তাদের অপরাধী তথ্য ভাণ্ডারে বিমান ছিনতাই চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদের নাম আছে। সাত বছর আগে অপহরণ সংক্রান্ত মামলায় তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।

র‍্যাবের দেয়া তথ্যে ২০১২ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিল পলাশ :

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) জানিয়েছে, দুবাইগামী বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদকে ২০১২ সালে তারা গ্রেপ্তার করেছিল। এক তরুণীকে অপহরণের অভিযোগে তাকে তখন গ্রেপ্তার করা হয়। অপহরণের একটি মামলায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠালে সে ২০দিন কারাভোগ করে। পরে জামিনে মুক্ত হয়। ২০১২ সালের মার্চ মাসে দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তি তার মেয়েকে অপহরণের জন্য পলাশের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলার অভিযোগে তিনি বলেন, তার মেয়েকে অপহরণ করে পলাশ আট লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। পরে ওই মামলায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অপহৃত তরুণীকে উদ্ধার ও পলাশ এবং তার সহযোগী নেমরা মারমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। র‌্যাব দাবি করছে, ঘটনার পরপরই তাদের ক্রিমিনাল ডাটাবেজ অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে তার আঙ্গুলের ছাপ পাওয়া যায়। ২০১২ সালে গ্রেপ্তারের সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর।

কে এই আলোচিত যুবক পলাশ?

চট্টগ্রামের বিমানবন্দরে কমান্ডো অভিযানে নিহত বিমান ‘ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী’ পলাশের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ফিরোজপুর ইউপির দুধঘাটা গ্রামে। ঘটনার দিন রাতেই নিহতের বাড়িতে ছুটে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। খোঁজ খবর নেয়া শুরু করে তারা।
এলাকায় পলাশ নামে পরিচিত থাকলেও বাইরে সে নিজেকে মাহাদি নামে পরিচয় দিত। চার ভাই বোনের মধ্যে পলাশ সবার ছোট। তাই আদরে আদরে ছোটকাল থেকেই অনেকটা উছৃংখল স্বভাবের ছিল। মাদরাসায় পড়াশোনা করলেও দাখিল পাসের পরই ইতি ঘটে শিক্ষা জীবনের। চলে আসে ঢাকায়। বাবা সেসময় ছিলেন প্রবাসী। দুই দফা নিজেই অপহরণ নাটক সাজিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল পরিবারের কাছ থেকে। এক সময় শোবিজের দিকে ঝুঁকে পড়ে সে। ‘কবর’ নামে একটি শর্ট ফ্লিমও করে। শোবিজে রঙিন নেশায় পরিবারের কাছ থেকে নানাভাবে হাতিয়ে নেয়া টাকা-পয়সা খরচ করতো সেখানে। এর মধ্যেই জাতীয় চলচিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা সিমলার সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় সেটা গড়ায় বিয়ে অবধি। তবে পারিবারিক সুত্র জানাচ্ছে, এর আগে ২০১৪ সালে বগুড়ার মেঘলা নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেছিল মাহাদি ওরফে পলাশ । ২০১৭ সালে ওই মেয়ের সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।
পলাশের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, সে এর আগে ২০১৪ সালে বগুড়ায় একটি বিয়ে করে। ওই স্ত্রীর নাম মেঘলা। সেখানে আয়ান নামে আড়াই বছরের একটি ছেলে আছে তার। তবে সিমলার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর ২০১৭ সালে প্রথম স্ত্রী তাকে তালাক দেয়। এছাড়া, এলাকায় নারী কেলেঙ্কারির একটি ঘটনায় মামলাও হয়েছিল পলাশের নামে। সেই মামলায় ২০ দিন জেল খেটে সে জামিন পেয়েছিল।

নিহত পলাশের বাবা পিয়ার জাহান সরদার গত সাত বছর আগে বিদেশ থেকে স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসেন। এলাকায় একটি মুদি দোকান চালান। তিনি জানান, ‘তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে পলাশ সবার ছোট। একমাত্র ছেলে হওয়ায় পলাশের প্রতি সবারই একটু বেশি ভালোবাসা ছিল। সে ২০১২ সালে সোনারগাঁওয়ের মঙ্গলের গাঁও তাহেরপুর মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করে সোনারগাঁও ডিগ্রি কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়। এরপর সে আর পড়াশোনা করেনি। পলাশ তাদের অবাধ্য সন্তান। এর আগেও বিদেশে যাওয়ার কথা বলে সে অনেক টাকা নষ্ট করেছে। যে কারণে ছেলের সঙ্গে তিনি ঠিকমতো কথা বলতেন না।’

তিনি আরো জানান, গত ১০ মাস আগে চিত্রনায়িকা সিমলাকে নিয়ে পলাশ বাসায় আসে। তখন সে জানায় সিমলাকে নিয়ে এলাকায় বেড়াতে এসেছে। কিন্তু দেড় থেকে দুই মাস পর লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি তাদের বিয়ে হয়েছে। এর ঠিক দেড় থেকে দুই মাস পরে পলাশ আবারও সিমলাকে নিয়ে বাড়ি আসে। তখন জানায় সিমলাকে সে বিয়ে করেছে। প্রথমে না মানলেও পরবর্তীতে বিয়ে মেনে নিই এবং বউকে (সিমলা) বলি ছেলেকে ভালো করে তুলতে। এরপর পলাশের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ হতো না।’

পলাশের বাবা সাংবাদিকদের জানান, কিছুদিন আগে সে একটানা ২৫ দিন বাসায় ছিল। এসময় সে নিয়মিত নামাজ পড়তো এমনকি স্থানীয় একটি মসজিদে আজান দিত। এটা দেখে তারা মনে করছেন ছেলে সুপথে ফিরে এসেছে। শুক্রবার দুবাই যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে বের হয়। পলাশ বলেছিল, সে দুবাই চলে যাবে। এ কারণে সে আমার কাছে ৫০০ দিরহাম দাবি করে এয়ারপোর্টে দেখানোর জন্য। আমি সেই টাকা জোগাড় করে দিই। যাওয়ার সময় ছেলেকে বলেছিলাম, এইবার গেলে পরে থাইকো। টাকা-পয়সা নষ্ট কইরো না। কিন্তু রোববার সন্ধ্যার পর ছেলের সর্বনাশের খবর শুনে নির্বাক হয়ে পড়ি। রোববার রাত একটার দিকে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি দল আমাদের বাসায় আসে এবং বাড়ি তল্লাশি করে। পরে আমি ও আমার স্ত্রীকে স্থানীয় এক মুরব্বির জিম্মায় রেখে যায় পুলিশ।

তিনি আরো জানান, পলাশের খবর শোনার পর থেকে তার মা রেনু আক্তার শয্যাশায়ী। তিনি কারও সঙ্গে কোনো কথা বলতে পারছেন না।

সোনারগাঁও থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, রোববার মধ্যরাতে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশনা পেয়ে মাহাদির পরিচয় শনাক্ত করতে তার গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন। নিহতের ছবি দেখিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাহেরপুর মাদরাসার সহকারী শিক্ষক নুরনবী জানান, সে মাদরাসায় পড়ার সময় বেশ উছৃংখল প্রকৃতির ছিল। এজন্য তাকে মাদরাসা থেকে একবার বের করে দেয়া হয়েছিল।

ফেসবুকে আলোচিত পলাশ?

নিহত পলাশ মাহিদি জাহান নামে একটি ফেসবুক আইডি চালাতেন। সেখানে সে নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়েছে যা সত্য নয়। ওই আইডিতে শেষ স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে, “ঘৃণা নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে”। গত রোববার দুপুর একটা তিন মিনিটে সে এ স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন। ফেসবুকে নায়িকা সিমলার সঙ্গে তার অসংখ্য অন্তরঙ্গ ছবি রয়েছে। গত বছরের ২৪শে সেপ্টেম্বর প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে ফেসবুকে পলাশ সিমলার সঙ্গে একটি অন্তরঙ্গ ছবি দিয়ে লেখেন “এ হচ্ছে আমার বউ যে আমার হাজার ভুলের মাঝে, আমাকে সহ্য করে পার করে দিল একটি বছর। দোয়া করবেন যাতে সারাটা জীবন এ পাগলিটা আমি এক সঙ্গে থেকে যেন মরতে পারি। বউ অনেক ভালোবাসি তোমায় আর কষ্ট দেবো না। শুভ বিবাহ বার্ষিকী আদরের পুতুল বউ আমার। I love You lot more then my self…!!!।

 

ঘটনার সময় বিমানে থাকা যাত্রীদের উৎকণ্ঠা ও পরিস্থিতি

বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের দুবাইগামী একটি বিমান ছিনতাই চেষ্টার শিকার হয় রোববার বিকালে। কিন্তু পাইলট সুকৌশলে বিমানটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করান পাঁচটা ৪১ মিনিটে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কমান্ডো অভিযানে পরাভূত হয় ছিনতাই চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদ। গতকাল বেলা ১টার দিকে ওই বিমানের যাত্রীরা অন্য একটি ফ্লাইটে দুবাই যাত্রা করেন। বিমান ছিনতাই চেষ্টার পর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে উড়ানোর আগ পর্যন্ত প্রায় ১৯ ঘণ্টা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় কাটিয়েছেন ওই ফ্লাইটের যাত্রীরা।

ঘটনার পর বিমানবন্দরে গিয়ে নিজের দেখা ঘটনা ও দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে পাওয়া পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিমানে পেছন দিক থেকে গালাগালি করতে করতে সামনে দিকে আসতে থাকে পলাশ । সে পাইলটকে দরজা খুলতে বলে। পাইলট দরজা খুলেননি। পত্রপত্রিকায় লেখা হয়েছে পাইলটের সঙ্গে অনেককিছু হয়েছে। না, পাইলটের সঙ্গে তার মল্লযুদ্ধ হয়নি। পাইলট তার সঙ্গে কথা বলে তাকে ব্যস্ত রাখার কৌশল নেন বলে জানান সংসদ সদস্য ।

তার বর্ননা মতে, পাইলট অত্যন্ত দূরদর্শিতা ও সাহসের সঙ্গে বিমান অবতরণ করেন। বিমানের ক্রুদেরও পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাহসী ভূমিকা ছিল। ক্রুরা ইকোনমি ও বিজনেস সিটের মাঝখানে পর্দা লাগিয়ে দেন। বিমানটি অবতরণের পর বিমানের ডানার পাশে থাকা জরুরি নির্গমন পথ দিয়ে যাত্রীদের বের করে আনা হয়।

সংসদ সদস্য বাদল জানান, পরে পাইলট যখন বেরিয়ে আসেন তার সঙ্গে আমার কথা হয়। পাইলট বললেন, ভেতরে ওই ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ নেই, এখন অপারেশন চালানো যায়। পরে সেনা কমান্ডো অফিসার আমাকে জানান, ভেতরে ওই ব্যক্তি অফেসনিভ নিয়েছে, যার কারণে তার সঙ্গে আমাদেরকে নেগোসিয়েশনে যেতে হয়েছে। এরপর অপারেশনে ওই ব্যক্তি আহত হওয়ার পর মারা যায়। ‘এদেশে রিয়েল হিরোরা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান না’ এমন দাবী করে মইন উদ্দীন খান বাদল দাবী বলেন, ‘ঘটনার সময় পাইলট, কো-পাইলট ও ক্রুরা অসীম সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন।

ঢাকার গাজীপুরের ওবায়দুর রহমান ছিলেন ওই বিমানের একজন যাত্রী। গতকাল ১২টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের আরেকটি ফ্লাইটে দুবাই যাত্রার প্রস্তুতি সারতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাউঞ্জে এদিকে-ওদিকে ছুটোছুটি করছিলেন। তিনি অনেকটা খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন।

তার প্রতি সহানুভূতিরও অভাব ছিল না বিমানবন্দরে কর্মরতদের। এ সময় জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের সুপারভাইজার শওকত হোসেন বলেন, ছিনতাইকারীর কবলে পড়া বিমান থেকে প্রাণভয়ে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসতে গিয়ে পায়ে আঘাত পান রাসেল।
নিজের চোখে যা দেখেছেন তার বিবরণ দিতে গিয়ে ওবায়দুর বলেন, বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ এ চড়ে আমি দুবাই যাচ্ছিলাম। বসেছিলাম বিমানের পেছনের দিকের সিটে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানটি উড়ার দশ মিনিট পর হঠাৎ একটি আওয়াজ শুনি।

তার সঙ্গে আঘাত পেয়েছেন আরো কয়েকজন যাত্রী। তবে তা গুরুতর নয়। আর তাদের সঙ্গে ওই বিমানের ১২৬ যাত্রীকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১২৭ বোয়িংয়ে দুবাই পাঠানোর বোডিং কাজ চলছিল তখন।

‘পিস্তল’ আসল না নকল উদঘাটন হয়নি সে রহস্যঃ

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ হাইজ্যাক চেষ্টায় ‘পিস্তল’ এখন রহস্য হয়ে দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো বলছে, বিমান হাইজ্যাক চেষ্টায় কমান্ডো অভিযানে নিহত মো. পলাশ আহমেদ খেলনা পিস্তল নিয়ে ফ্লাইটে উঠেছিলেন। তার কাছে আসল ‘পিস্তল’ ছিল না। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী পিস্তল রহস্যের কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি। সাংবাদিকদের জানান, পিস্তল বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। আমরা এখনো পুরো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেছি।

বিমান সচিব মহিবুল হক বলেন, সেটা অস্ত্র কিনা আমরা ওয়াকিবহাল না। খেলনা পিস্তল বা যেকোনো কিছু হতে পারে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটা নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।

রোববারের ঘটনা জানাতে গিয়ে বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কলিগদের থেকে জানলাম বিমান হাইজ্যাক হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারের কথা বললাম। প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলে দেখলাম তিনি ঘটনাটি জানেন। কমান্ডো প্রসিড করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি (পিএম) সার্বক্ষণিক পুরো বিষয়টি মনিটর করেছেন। পরবর্তীতে আমরা জানলাম, সবাই নিরাপদে রয়েছে।

বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোববারের ঘটনার পর শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার আয়োজন পর্যালোচনা করে দেখেছি। আমরা কোনো ধরনের ত্রুটি পাইনি। এখানে এমন কোনো লিকেজ ছিল না বা এখনো নাই যে একজন যাত্রী এভাবে বিমানে যেতে পারে। বিমান সচিব মহীবুল হক বলেন, আমরা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখেছি, অন্য দশটা যাত্রীর মতো তাকেও (সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী) তল্লাশি করা হয়েছিল, তার কাঁধে একটা ব্যাগ ছিল। সেটা স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে গেছে, কিন্তু সেখানে কিছু দেখা যায়নি। বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে।

সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এম নাঈম হাসান বলেন, বিমান থেকে সবাই বেরিয়ে যাওয়ার পর ‘সো কলড’ হাইজ্যাকার বিমানে একাই ছিল। আমরা সেদিন অনেক কিছুই শুনেছি। তদন্ত প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টি বিস্তারিত জানা যাবে। আগ্নেয়াস্ত্রের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান বলেন, এয়ারক্রাফটে গুলি বিনিময় হলে তার চিহ্ন থাকতো। আমরা কোনো চিহ্ন কোথাও পাইনি। খেলনা পিস্তলের শব্দ হয়। যাত্রীরা শব্দ শোনার কথা বলেছে। ওই পিস্তল আসল নাকি নকল- তদন্ত না করে তা বলা যাবে না। এদিকে বিমান প্রতিমন্ত্রী জানান ওই বিমানটি চট্টগ্রামে নামার কথা ছিল, সে অনুযায়ীই নেমেছে; জরুরি অবতরণ করেনি।

Loading...