বিমান ছিনতাই : নিরাপত্তার ঘাটতি বলেছেন বিশ্লেষকরা

১০:৪৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯ স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর :: চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় বাংলাদেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ভেদ করে অস্ত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ওঠা নিরাপত্তার ঘাটতি বলেই মানছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে ঘাটতি আছে, সেটা পূরণ করা দরকার। নিরাপত্তা নিয়ে যে রুল ও রেগুলেশন আছে, সেটা যথাযথভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলেই নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক মানের করা সম্ভব।

এদিকে, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের ময়ূরপঙ্খী উড়োজাহাজটি ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় একটি আলামত মঙ্গলবার পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সেটি একটি খেলনা পিস্তল।

এ ঘটনায় করা মামলার এফআইআরে বলা হয়েছে, এই মামলার আলামত র‌্যাব-৭ ও প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের কাছে আছে। সেই আলামত আজ বিকেলে চট্টগ্রামের বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়। সূত্রটি জানিয়েছে, আলামতটি একটি খেলনা পিস্তল। আর বোমাসদৃশ বস্তু সংগ্রহ করতে একজন কর্মকর্তা গেছেন।

তবে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহাবুব আলী নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে, সেটা মানতে নারাজ। সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে বারবারই নিরাপত্তার ঘাটতির বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সেটা তো আপনারা (সাংবাদিকরা) নিজ চোখে দেখলেন।

আর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম নাঈম হাসান নিরাপত্তা ইস্যুতেই সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন। তার বক্তব্য ছিল একটাই, আমরা তদন্ত করবো। সিসিটিভি আছে, সেটি চেক করবো। আমাদের মেশিনে সিসিটিভি আছে, সবগুলো চেক করবো। কারণ এই মেশিনের ভিতর দিয়ে যদি নেইল কার্টার, খেলনা পিস্তল, ছুরি ধরা পড়তে পারে, তাহলে এগুলো ধরা হবে না, জিনিসটা খুব বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। তদন্ত হোক তাহলে দেখা যাবে।

তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক এ রব মনে করেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ঘাটতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, নিরাপত্তার যে ধাপ আছে, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু সেই ধাপ কতটুকু বাস্তবায়ন হয়? আপনি যদি দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো দেশের বিমানবন্দরের সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে দেখবেন, আমাদের নিরাপত্তার কতটুকু ঘাটতি আছে। আমাদের ঘাটতি ইমফোর্স করা হয় না।

তারা আরো বলেন, স্ক্যানিং ঠিকমতো করা হয় না, যেমন আমাদের বিমানবন্দরে জুতা, জ্যাকেট এসবের স্ক্যানিং করা হয় না। কিন্তু আপনি যদি দক্ষিণ এশিয়ার কথাই ধরেন, তারাও জুতা, জ্যাকেটসহ সবই স্ক্যানিং করে। যে রুল ও রেগুলেশন রয়েছে, সেগুলো এনফোর্সড করলেই হবে না, নিরাপত্তায় স্ট্যান্ডার্ড রুল অ্যাপ্লাই করতে হবে।

অন্যদিকে বিমান ছিনতায়ের ঘটনায় করা মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে।

ইউনিটের উপ-কমিশনার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, মামলার তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে ইতিমধ্যে পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়াকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা তদন্ত কাজ শুরু করেছি। পাশাপাশি ঘটনার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রযুক্তি সহকারী দেবব্রত সরকার বাদী হয়ে পতেঙ্গা থানায় মামলাটি করেন।

এজাহারে পলাশের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, উক্ত আসামি তাহার সহযোগী অপরাপর অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় উক্ত অপরাধ (বিমান ছিনতাই) সংঘটনের চেষ্টা করিয়াছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।

এই ঘটনা তদন্তে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।