সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু

১০:৪৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯ স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর :: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে।

এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে মেয়র পদে এবং উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নতুন ৩৬টি ওয়ার্ড ও ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে সাধারণ নির্বাচন হবে। নির্বাচনী এলাকায় এদিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা সাধারণ ছুটির বাইরে থাকবে।

ইসির যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানান, ডিএনসিসি নির্বাচনী এলাকায় বুধবার মধ্যরাত থেকে ২৪ ঘণ্টা যন্ত্রচালিত যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মহাসড়ক ছাড়া আন্তঃজেলা ও মহানগর থেকে বের হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক, প্রধান প্রধান সংযোগ সড়কে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।

নির্বাচনে মোট প্রার্থী ৩২২ জন। ডিএনসিসি মেয়র পদে নির্বাচন করছেন ৫ জন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে, জাতীয় পার্টির শাফিন আহমেদ লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে, এনপিপির আনিসুর রহমান দেওয়ান আম প্রতীক নিয়ে, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রহিম টেবিল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে এবং পিডিপির শাহীন খান বাঘ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ডিএনসিসির সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮। ভোটকেন্দ্র ১২৯৫, ভোটকক্ষ ৬৪৮২। মোট ভোটার ৩০৩৫৬২১ জন; পুরুষ ১৫৬৩৫৩০, নারী ১৪৭২০৯১। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১৬ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৪৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়া উত্তর সিটির ৯ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মারা যাওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় ভোটের আর প্রয়োজন হচ্ছে না। এছাড়া নতুন ১৮ ওয়ার্ডে মোট ভোটকেন্দ্র ২৪৩, ভোটকক্ষ ১৪৭২, ভোটার ৫৯০৭০৫ জন; পুরুষ ২৯৮২৮৫ জন এবং নারী ২৯২৪২০ জন।

দক্ষিণ সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড ১৮, সংরক্ষিত ৬। সাধারণ ওয়ার্ডে ১২৫ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ২৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটকেন্দ্র ২৩৫, ভোটকক্ষ ১২৫২ এবং ভোটার ৪৯৬৭৩৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২৫৪৪৯৭ জন এবং নারী ২৪২২৩৮ জন। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৩ জন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭২ জন ও দক্ষিণ সিটিতে ২৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। বিচারিক হাকিম রয়েছেন ২৪ জন।

উপনির্বাচনে আগামী দিনের নগর পিতা নির্বাচন করবেন ঢাকা উত্তরের জনগণ। তবে নির্বাচন ও প্রচারণা নিয়ে যেমন উত্তাপ ছড়ানোর কথা ছিল তেমনটা হয়নি। শুধু ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থীর জনসংযোগ আর অন্যদের কয়েকখানা পোস্টার বিলবোর্ডে আটকে ছিল প্রচারণা। মেয়র প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের যেন কোনো মাথাব্যথাও নেই।

মেয়র উপনির্বাচন নিয়ে ভোটারদের তেমন আগ্রহ না থাকলেও উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রচারণা নির্বাচনে কিছুটা রঙ দিয়েছে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে রাজধানীর উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার বিভিন্ন অলি গলিতে চলছে ধুন্ধুমার প্রচারণা।

সরেজমিন দেখা গেছে, উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার সড়ক নির্বাচনী পোস্টারে ছেয়ে গেছে। অলি গলিতে চলছে ভোটের প্রচারণা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় মাইক বাজিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে। এসব মাইকে এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীর সমর্থকরা। বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী লিফলেট বিলি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা। তবে এই এলাকায় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে পোস্টার ও ব্যানার ছাড়া অন্যকোনো প্রচারণা দেখা যায়নি। এলাকার অলি গলিতে স্থানীয় ভোটারদের মুখে মুখে কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়েই আলোচনা বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটারদের দাবি- নগরপিতা হিসেবে আমরা একজন যোগ্য মানুষকেই চাই। যে পুরো সিটির উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য কাজ করবেন। যেমনটি করেছিলেন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। আমরা ভোটকেন্দ্রে যাব, ভোটও দেব। মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলর যেই নির্বাচিত হন না কেন, এলাকার উন্নয়ন চাই। সামনে বৃষ্টি-বাদলের দিন আসছে। সামান্য বৃষ্টিতে এই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মানুষ রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারে না। ওই সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আমরা এই জলাবদ্ধতার অবসান চাই। পাকা রাস্তা ও এলাকার উন্নয়ন চাই।