কর্ণফুলীতে হাত বাড়ালেই জাল সনদ!

২:২১ অপরাহ্ণ | শনিবার, মার্চ ২, ২০১৯ স্পট লাইট
sonod

জে. জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুুরো: অবিকল একই সাধারণের বুঝার কোন উপায় নেই। এমনকি কোন একসেস না থাকায় অনেক বিয়ে পড়ানো রেজিস্ট্রাট কাজী ও সনাক্ত করতে পারেন না এসব যে জাল সনদ।

চট্টগ্রাম কর্ণফুলীর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে একাধিক স্টুডিও ও কম্পিউটারের দোকানে জাল কাগজপত্র তৈরীর চক্রের দৌরাত্ম বেড়েছে। যেখানে সেখানে মিলছে তৈরী করা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ ও নানা ওয়ারিশ সার্টিফিকেট সহ ট্রেড লাইসেন্স।

এসব জাল সনদ তৈরীতে সরকার এক দিকে হারাচ্ছে তার রাজস্ব অপরদিকে জাল কাগজে বাড়ছে আইনি জটিলতা। বেগ পেতে হচ্ছে আদালত কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরও। বিব্রত অবস্থায় পড়ছে অনেক ইউপি চেয়ারম্যানও। কর্ণফুলীর বেশির ভাগ স্টুডিও ও কম্পিউটারের দোকানে চলছে জাল সনদের রমরমা এ বানিজ্য। এখানে হাত বাড়ালেই অল্প দামে মিলছে জাল ও ভুয়া সার্টিফিকেট ও নানা মার্কসিট।

একাডেমিক যোগ্যতা না থাকলেও যে কেউ চাইলে তৈরী করে নিচ্ছেন বিভিন্ন জাল সনদ। টাকার বিনিময়ে এসব জাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে বিভিন্ন গার্মেন্টস ও ফ্যাক্টরীতে কিংবা নানা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে। অনেকে আবার বিয়েও করছেন এ রকম অভিযোগও কম নয়। পরে বিবাহ বিচ্ছেদে এলাকার মহিলারা নানা জটিলতায়ও পড়ছে এ রকম খবর শোনা যায়।

বিভিন্ন কৌশলে প্রযুক্তি ব্যবহার ও নিজস্ব গোপন পেনড্রাইভ রেখে নানা ডিভাইসে অসাধু চক্র অনেকটা নীরবে এ কর্মকান্ড চালাচ্ছেন বহাল তবিয়তে। কর্ণফুলী প্রশাসন এ বিষয়ে কোন অভিযান পরিচালনা না করায় সহজে ধরা পড়ছেনা। অথচ কর্ণফুলী উপজেলার নানা বাজারের আনাচে কানাচে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো অলিগলিতে স্টুডিও ও কম্পিউটারের দোকান। কোনটার নাম রয়েছে আবার কোনটার দোকানের সাইনবোর্ডও নেই। বিচিত্র ব্যবসা তাদের। মেমোরিতে গান লোড করা ও ছবি তোলার আড়ালে চলছে এসব জাল জালিয়াতি।

জানা যায়, বিগত ৮/১০ বছর আগে উপজেলায় গড়ে ওঠে নানা বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। জাহাজের নানা কোম্পানীতে চাকরি নিতে হলেও দরকার নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মসনদ। কিন্তু এসব কাজেও ব্যবহার হচ্ছে নানা ভুয়া সব কাগজপত্র এমনটি অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।

উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, চরপাথরঘাটার আজিমপাড়া কাঁচাবাজার, পুরাতন ব্রীজঘাট, ইছানগর বিএফডিসি গেইট সংলগ্ন বাজার, সৈন্যেরটেক বাজার, শিকলবাহা মাস্টারহাট বাজার, জুলধা পাইপের ঘোড়া এবং কলেজ বাজারের একাধিক কম্পিউটারের দোকানে এসব কার্যক্রম হয় বলে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়। এসব বাজারের কম্পিউটারের দোকান ও ফটো স্টুডিও তে অতিদ্রুত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান ও পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন সচেতন মহল।

এসব দোকানে জাল সনদের ব্যবসা হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মাত্র ২০০/৫০০ টাকায় মিলছে জাল সনদ ও নকল হুবহু সব ধরনের কাগজের কপি। অনেক দোকানে সনদ তৈরীর জন্য তাদের রয়েছে নানা সফটওয়্যার। ওই সফটওয়্যার এর সাহায্যে জাল সনদ তৈরী করে তাতে হুবহু সিল স্বাক্ষর বসিয়ে দিচ্ছেন তারা। যেন বুঝার কোন উপায় নেই যে সেটা আসল না নকল!

দীর্ঘদিন এই চক্রটি জাতীয় পরিচয়পত্র, নানা ইউনিয়নের নাগরিকত্ব সনদ, ভূয়া ট্রেড লাইসেন্স, ভূয়া স্কুল সার্টিফিকেট ও ওয়ারিশ সনদ সরবরাহ করছে তারা। গত কয়েক দিন আগেও চরপাথরঘাটা খোয়াজনগর এলাকার আব্দু রহমান নামক একজনকে ভুয়া জাতীয় পরিচয় তৈরীর অপরাধে সদরঘাট থানার পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

চরপাথরঘাটা ১নং খ) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী ছাবের আহমেদ, জুলধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিক আহমদ, বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ দিদারুল আলম সুত্রে জানান, ইউনিয়ন পরিষদের জাল কাগজ তৈরী করা একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। সরকারী কাগজপত্র কিভাবে তারা সিল স্বাক্ষর করে বানায় দিচ্ছে আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা মাসিক মিটিং এ বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবো। আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরাও একটু বিষয়টি তুলে ধরুন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জজকোর্টেও আইনজীবি অ্যাডভোকেট তওফিকুল মাওলা সুজন বলেন, ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করা আইনত অপরাধ। এসব জাল জালিয়াতি কাগজের কারণে আদালতে নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও পড়তে হচ্ছে নানা বিভ্রান্তিতে ও বিব্রতকর অবস্থায়।