রাজবাড়ীতে বৃষ্টিতে পেঁয়াজের ব্যাপক ক্ষতি

৫:৪৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, মার্চ ৩, ২০১৯ অর্থনীতি

খন্দকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: গত কয়েক দিনের অসময়ের বৃষ্টিতে রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ১৪ শতাংশ পেয়াজ রাজবাড়ীতে উৎপাদিত হলেও অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে জেলার ৫টি উপজেলার নিচু অঞ্চলের আবাদী জমির পেঁয়াজ।

গত কয়েক দিনের চলমান নিম্নচাপ জনিত অসময়ের অতিবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কালুখালি উপজেলার। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমির পিঁয়াজ, রসুন ও মসুরী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কালখালি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে বোয়ালিয়া, মাজবাড়ী, মৃগী, সাওরাইল ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

আজ রবিবার সকাল থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজ রসুন সহ অন্যান্য ফসলি জমি পানিতে ডুবে রয়েছে। মৃগী ইউনিয়নের শিকজান, নিয়ামতপুর, আরকান্দি ও বিলনৌছি গ্রামের কৃষকেরা নিজেরাই পানি নিঃস্কাশনের ব্যবস্থা করছেন।

এ সময় স্থানীয় মোতালেব হোসেন বলেন, এখানকার ৫টি গ্রামের মানুষের প্রায় পাঁচ শতাধিক একরের পিঁয়াজ ও রসুন চাষাবাদ করা হয়েছে যা এই বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। এই ফসলি জমির পানি নিঃস্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া উচিৎ। ৩ দিনের এই বৃষ্টিতে আবাদী জমির ৭০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। পেঁয়াজের পাশাপাশি মশুরি, রসুন সহ গম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির মুখে পরবে বোরো চাষে। রাজবাড়ীতে এ বছর ২৭ হাজার ৩২৩ হেক্টর জমির পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্র ধরা হলেও ২৮ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করে জেলার কৃষকেরা।

রাজবাড়ী সদর, বালিয়াকান্দি ও কালুখালি সহ ৫টি উপজেলার নিচু অঞ্চলের পেঁয়াজ চাষীদের মাথায় হাত। দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনের তৃতীয় জেলা হিসাবে খ্যাত রাজবাড়ীর পেঁয়াজ চাষীরা বিপর্যস্থ। নিচু অঞ্চলের জমির পানি নিষ্কাশন হয়ে খালে না যাওয়ায় ক্ষতির পরিমান বেশি হয়েছে। মাঠের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত খালে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণের ফলে পানি আটকে থাকায় খালের পানি আসছে কৃষকের আবাদী জমিতে। অন্যদিকে জেলার বেশ কিছু অঞ্চলে কৃষকেরা নিজ ব্যবস্থাপনায় সেলো ইঞ্চিন দিয়ে জমির পানি দূর করছে। অনেক কৃষক মুড়ি পেঁয়াজ পাকার আগেই পচে যাওয়ার ভয়ে ঘরে তুলছে তারা।

জেলার সদর উপজেলার মাশালিয়া অঞ্চলের পেঁয়াজ চাষী মতিন মোল্লা বলেন, হঠাৎ করে টানা বৃষ্টিতে আমার পৌনে ২ একর জমির প্রায় ১ একর জমি পানির নিচে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জমি থেকে খালের দূরত্ব ২০০ মিটার হলেও জমির পানি খালে যাচ্ছে না।

শামসু মোল্লা বলেন, অল্প কিছু টাকার জন্য সরকার খাল লিজ প্রদান করে। লিজ গ্রহীতারা যেখানে সেখানে বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয় ফলে খালের পানি জমিতে আসে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাষি মোঃ মোতাহার হোসেন বলেন, আমাদের এ মাঠের প্রায় অর্ধেক পেঁয়াজ পানির নিচে। আমরা ৩ দিন ধরে বিভিন্ন জমিতে মাঝখান দিয়ে ক্যানাল করে ২০ টি স্যালো ইঞ্চিন দিয়ে পানি নিষ্কাশন করছি।

বালিয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ বছর পেঁয়াজ চাষীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমি আমার ব্যক্তি উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের জন্য ন্যযত তেল প্রয়োজন সেটা প্রদান করছি।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ বাহাউদ্দিন জানান, এ বছর সদর উপজেলায় ১হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে বৃষ্টিতে ৩৬ হেক্টর জমিতে পেয়াজ ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ইউনিয়ন গুলো হলো বানিবহ ও বসন্তপুর।

ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে বালিয়াকান্দির উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, হঠাৎ করেই এ বৃষ্টিতে পেঁয়াজের জমি বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ৪০ শতাংশ ফলন কম হবে বলে জানায় এ কৃষি কর্মকর্তা।

কালুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাছিদুর রহমান জানান, এ বছরে কালখালি উপজেলায় ১৪,১৩৭ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে যা এই বৃষ্টিতে অনেক উপকৃত হয়েছে। এছাড়াও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ পেঁয়াজ চাষীদের নিকট গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ সার্বক্ষনিক পানি নিঃস্কাশনের জন্য সুপরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, বৃষ্টিতে কি পরিমাণ জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেটা জানতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। আমরা কৃষকদের পানি নিষ্কাশন সহ জমিতে যেন ইউরিয়া সার প্রয়োগ না করে সেই পরামর্শ প্রদান করছি।