লক্ষ্মীপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে সয়াবিন আবাদ

১:২৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, মার্চ ১১, ২০১৯ অর্থনীতি
fosol

মু.ওয়াছীঊদ্দিন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: ‘সয়াবিনের রাজধানী’ খ্যাত লক্ষ্মীপুরে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তিন হাজার হেক্টর বেশি জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও উৎপাদন বেশি হবে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের মধ্যে লক্ষ্মীপুরে উৎপাদন হয় প্রায় ৮০ ভাগ। জেলায় চলতি মৌসুমে ৪৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৪৮ হাজার ৫৪৫ হেক্টরে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ছয় হাজার ৫৬০ হেক্টরের বিপরীতে ৯ হাজার হেক্টরে, রায়পুর উপজেলায় ছয় হাজার ১০৫ হেক্টরের বিপরীতে সাত হাজার হেক্টরে, রামগঞ্জ উপজেলায় ৮৫ হেক্টরের বিপরীতে ৩৫ হেক্টরে, রামগতি উপজেলায় ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টরের বিপরীতে ১৭ হাজার ৭০০ হেক্টরে এবং কমলনগর উপজেলায় ১৪ হাজার ৫৫০ হেক্টরের বিপরীতে ১৪ হাজার ৮১০ হেক্টরে সয়াবিন আবাদ হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ছয় হাজার ৫৫ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে।

পৌষ মাসের শুরু থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত সয়াবিন বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। প্রতি একর সয়াবিন উৎপাদনে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। যার বিক্রয়মূল্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। অল্প পুঁজিতে কম সময়ে অধিক ফলন পাওয়ায় সয়াবিনকে সোনার ফসল মনে করেন লক্ষ্মীপুরের চাষি। গত মৌসুমে সয়াবিনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রকৃতি। সে সময় শুরুতেই অতিবৃষ্টিতে সয়াবিন আবাদে চাষিদের বেগ পেতে হয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে আবাদি জমিগুলোতে আগাছা পরিষ্কারের কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার চাষি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার সয়াবিনের বাম্পার ফলন হবে এমনটাই প্রত্যাশা জেলার কৃষকের।

সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের সয়াবিন চাষি আবদুল মান্নান জানান, চলতি মৌসুমে ১২০ শতক জমিতে সয়াবিন আবাদ করেছেন। কয়েক দিন আগে হয়ে যাওয়া বৃষ্টি ফসলটির জন্য খুব ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর সয়াবিনের ভালো ফলন পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।

রায়পুর উপজেলার চরবংশী গ্রামের সয়াবিন চাষি ইউসুফ মোল্লা জানান, চলতি মৌসুমে মাঘ মাসের শুরুতেই তিনি ৮০ শতক জমিতে সয়াবিন আবাদ করেন। ভালো ফলনের আশায় তাই পরিবারের লোকজন নিয়ে এখন জমিতে সার, কীটনাশক ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভ হবে বলেও তিনি আশাবাদী।

সদর উপজেলার চররমনীমোহন গ্রামের সয়াবিন চাষি মাহফুজ মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে পৌষ মাসের শুরুতেই সয়াবিনের বীজ বপন করেছেন। সয়াবিন ক্ষেত পরিচর্যা নিয়ে তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সয়াবিনের আবাদ বেশি হয়েছে। সয়াবিনের কাক্সিক্ষত ফলনের জন্য কৃষককে মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Loading...