খুড়িয়ে চলছে পরশুরামের ৫০ শয্যার হাসপাতাল

৭:২৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, মার্চ ১১, ২০১৯ চট্টগ্রাম

আবদুল্লাহ রিয়েল, ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় ৫০ শয্যার সরকারী একমাত্র হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের কারনে সাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালের ডাক্তার, কর্মকর্তা, কর্মচারী লোকবল সংকটের কারনে স্বাস্থ্য সেবা বিগ্নিত হচ্ছে। এমনকি হাসপাতালের এক্সেরে মেশিনটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে বছরের পর বছর ধরে।

পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জানা যায় প্রতিদিন গড়ে হাসপাতালে বর্হি বিভাগে চারশ থেকে ৫শ রোগি চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। এছাড়াও ইনডোরে গড়ে প্রায় ১৫০/১৬০ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসক সংকট সহ নানা সমস্যার কারনে রোগিরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

৫০ শয্যার পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঞ্জরীকৃত পদের সংখ্য ২৫টি, কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১০টি। তার মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি) ডাক্তার বুশরা নূর আল চৌধুরী ২০১৪ সালের ২৫ আগষ্ট পরশুরামে যোগদানের পর থেকে ঢাকার মুগ্ধা মেডিকেল কলেজে সংযুক্ত রয়েছেন।

ডাক্তার বুশরা নূর আল চৌধুরী সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেন ২০১৪ সালের ৭আগষ্ট তারিখে। পরশুরাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের ১৮ দিন পরই তিনি ঢাকায় চলে যান,তার পর থেকে পরশুরামে তার পদটি শুন্য রয়েছে। অপরজন ডেন্টাল সার্জন ডাক্তার কামরুন নাহার ২০১৭ সালের ৩ মে থেকে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত রয়েছেন। এছাড়াও পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে শুন্য রয়েছে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এন্যাসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (আর্থোপেডিক), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), এছাড়াও শুন্য রয়েছে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (ইওসি), মেডিকেল অফিসার, আইএমও, প্যাথলজিষ্ঠ, এন্যান্থেটিষ্ঠ, মেডিকেল অফিসার (এমএমসি) পদ।

অপরদিকে সুবার বাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, নোয়াবাজার উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, নোয়া বাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র , বক্সমাহমুদ বাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরৈ মেডিকেল অফিসারের পদ শুন্য পড়ে আছে।

সরকার নিয়োগ দেয়ার পর পরই তারা তদবীর করে চিকিৎসকরা অন্যত্র বদলী হয়ে চলে যায়। ৫০ শর্য্যার এই হাসপাতালে অবকাঠামো গত কিছু উন্নয়ন হলেও চিকিৎসা সেবা বলতে তেমন কিছুই নেই।

যে ১০জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ থাকেন ছুটিতে, এছাড়াও দেরিতে কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া , চিকিৎসকদের মধ্যে অভ্যন্তরীন নানা বিষয় বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে।

পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী মো ইসমাইল জানান হাসপাতালে চিকিৎসক শুন্যতার বিষয়টি উর্ধদতন কর্তপক্ষ অবহিত রয়েছেন।

তিনি জানান, জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে আনসার সদস্য নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন, তাছাড়াও ৫জন সুইপাররের মধ্যে রয়েছে মাত্র ৩ জন। নির্ধারিত বেডের বাইরেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় দ্বিগুনের চেয়ে বেশী রোগী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়। অথচ তাদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত জন বল ডাক্তার শূন্যতার কারণে পরশুরাম উপজেলার রোগীরা চরম ভোগান্তী পোহাতে হচ্ছে।

গরীব রোগীরা ফেনীতে গিয়ে চিকিৎসা করতে অনেক কে হিমশিম খেতে হচ্ছে। উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর অফিস থেকে জানা যায় ২০০৯ সালের ১৩ জুন আনুষ্টানিক ভাবে ৫০শর্যায় উন্নীত করা হয়েছে। তবে পূর্বে যন্ত্রপাতি ও ডাক্তার নার্স দিয়ে তার কার্যক্রম এখন পর্যন্ত চলছে।

পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডাক্তার আবদুল খালেক জানান হাসপাতালে ডাক্তারের শূন্য পদের বিষয়টি উর্ধদতন কতৃপক্ষ অবহিত রয়েছেন। তিনি জানান চিকিৎসার মান বৃদ্বি করতে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা সার্বক্ষনিক সচেষ্ট রয়েছেন।