সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সরানো হয়েছে আখতারুজ্জামান চত্বরের ঝোপঝাড়: শোভা বৃদ্ধি ও দৃষ্টিনন্দন কবে?

৪:৩০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, মার্চ ১৫, ২০১৯ চট্টগ্রাম

জে.জাহেদ, বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: অযত্ন-অবহেলায় ঝরাজীর্ণ আর সৌন্দর্য্যহীন হয়ে পড়া কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেকের বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান চত্বরের ঝোপঝাড় ও ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে।

কর্ণফুলী থানা পুলিশের উদ্যোগে গত কয়েক দিন আগে চত্বরটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও ক্লিন করা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের পক্ষ থেকে এবার প্রশ্ন ওঠেছে কবে ঐতিহবাহী এই চত্বরটির শোভা বৃদ্ধি ও দৃষ্টিনন্দন করা হচ্ছে?

কর্ণফুলী থানা পুলিশ নাজুক অবস্থা থেকে চত্বরটিকে পরিচর্যা করে একটু উঠিয়ে নিয়ে আসলেও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত ছিলো এটি।

চত্বরটির নামকরণ করা হয় দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বনামখ্যাত প্রয়াত রাজনীতিবিদ আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর নামে। কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেক গোল চত্বরটির নানা ইতিহাস আর স্মৃতিবিজড়িত একটি জায়গা।

কিন্তু চত্বরটি অযত্ন অবহেলায় নিমজ্জিত। চত্বরটির চারপাশে গাছগাছালির আগাছা আর ময়লা আবর্জনার স্তুপে ভরা।

ফলে মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষের সাধারণ মানুষেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকে এর সৌন্দর্য্যরুপ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন।

তথ্যমতে, ২০১০ সালে বর্তমান প্রবাসী ও জনকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ও পটিয়ার সংসদ সদস্য শামশুল হক এমপি চত্বরটি নতুন রুপে নামফলক উদ্বোধন করেছিলেন।

যদিও প্রায় সময় দেখা যেত নেতাদের ব্যানার, পোস্টার, সভা সমাবেশের বিলবোর্ড , ট্রাক ও সিএনজি মালিক সমিতির রং বে-রংয়ের নানা পোস্টারে দখল থাকতো আখতারুজ্জামান চত্বরটি।

এদিকে কর্ণফুলীবাসী দাবি জানান, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মইজ্জ্যারটেকে অবস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান চত্বরটি যেনো দৃষ্টিনন্দনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কেননা চৌরাস্তা মোড়ে মূলত চত্বর তৈরী করা হয় সড়কের সৌন্দর্য্যবৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য নিরাপদ ফুটপাত ও যানজট নিরসনের সুবির্ধাথে। দীর্ঘ ৯ বছর আগে চত্বরটি নির্মাণ করা হলেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের বালাই নেই বলে ময়লা ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছিল।

এমনকি চত্বরে থাকা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার নামফলকটিও চোখে না পড়লে কোন ভাবেই চেনার উপায় নেই যে ওটা ‘আখতারুজ্জামান চত্বর’। নামফলকের পাশে অনেক গাছ। চত্বর ঘিরে থাকা লোহার বেষ্টনীর অবস্থাও করুণ, কোথাও আছে, কোথাও নেই। ভাঙ্গা ঝরাজীর্ণ চত্বরের ভেতরেই নাকি প্রবেশ করা যায়না দুর্গন্ধে।

চত্বরটির পাশে মায়মুনা টাওয়ারের নিচ তলায় মায়া ফার্মেসীর সত্বাধিকারী মনির উদ্দিন মনির জানান, চত্বরটি আরো ছোট করা দরকার ছিল কেননা মইজ্জ্যারটেক মোড়ে এত বড় চত্বরের প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করিনা। এমনকি এটা রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি দীর্ঘদিন।

এছাড়াও মার্কেটে অবস্থিত শাহ্ আমানত টাইস এন্ড সেনেটারী দোকানদার ও একই কথা বলেন।

চালক ও যাত্রীদের অনেকে মনে করেন, গোলচত্বরটি আরেকটু ছোট করা দরকার।

চট্টগ্রাম-আনোয়ারা রুটের বাসচালক মোহাম্মদ শফি জানান, ‘গোলচত্বর বড় হওয়ায় একপাশ হতে আরেক পাশ দেখা যায় না। ছোট হলে গাড়ি চলাচলের জায়গা বেশি পাওয়া যেত। এতে দুর্ঘটনা কম হতো বলে ধারণা করছি।’

শাহ আমানত তৃতীয় সেতু নির্মাণের সহযোগী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আল আমিন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড সুত্রে জানায়, যথাযথভাবে নিয়ম মেনেই গোলচত্বর করা হয়েছে। গোলচত্বরের ব্যাস ৩৬ মিটার। চত্বরের চারপাশের সড়ক ১২ মিটারের স্থলে সাড়ে ১৩ মিটার করা হয়েছে। আর গোলচত্বর শুধুই গাড়ি ঘোরার জন্য। এখানে অবৈধ পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা হচ্ছে বলেই দুর্ঘটনা ঘটছে।’

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানান,‘গোলচত্বরকে সুব্যবস্থাপনার আওতায় এনে সম্পুর্ণ যানজটমুক্ত রাখতে হবে। কিন্তু এ ব্যবস্থা এখনো গৃহীত হয়নি।’

এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামশুল তাবরীজ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমিও ভেবেছি মিনি পার্ক কিংবা সংস্কারে নতুনত্ব আনা যায় কিনা তা নিয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে পরামর্শ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদেও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান চত্বরের সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য অনেক আগেই প্রকল্প জমা দিয়েছি ,শুধু ফোর লেইনের কাজ সমাপ্তির জন্য অপেক্ষা করছি। অনেক ভাল আর্কিটেকচার দিয়ে তৈরী করেছি মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনায়।’

এছাড়াও তিনি আরো জানান, চত্বরের উপরে একটি ফুটওয়্যার ব্রীজের জন্য ডিও লেটার জমা দেওয়া হয়েছে সড়ক ও জনপথ মন্ত্রনালয়ে।’ চত্বরের সব ব্যবস্থা করা সত্বেও এক্ষেত্রে জনগণ দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন না দেখায় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কর্ণফুলীবাসীরা।