রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কোচিং পদ্ধতির উপর নির্ভর

coching

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান পদ্ধতি কোচিং এবং প্রাইভেট টিউশনের উপর নির্ভর। প্রত্যেক অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কোচিং সেন্টারে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।

এই শিক্ষা পদ্ধতী প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর জন্য উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা নয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকরা যথাযথ পাঠদান দিচ্ছে না শিক্ষার্থীদের। সরকারি, এমপিও এবং বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত যার ফলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিকাশ কমতে শুরু করেছে।

মূলত শিক্ষকরা তিন ধরনের শিক্ষা বাণিজ্যের সাথে জড়িত। যার প্রথমটি হচ্ছে স্কুল ও কলেজের শ্রেণী পরীক্ষার প্রস্ততি, দুই হচ্ছে পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্ততি এবং সর্বশেষ সরকারি বা সুনামধণ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোচিং। এই সকল বিষয়ে শিক্ষকরা অভিভাবকদের বিভিন্ন কৌশলে তাদের সন্তানদেরকে কোচিং করতে বাধ্য করছে।

জেলার ৯টি উপজেলায় অনেক সংখ্যক কোচিং সেন্টারের বিস্তার প্রমান বহন করছে। স্থানীয় সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, তাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে সঠিক পাঠদান পাচ্ছে না। যার দরুন বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কোচিং এর উপর নির্ভর হচ্ছে প্রত্যেক অভিভাবক। কিন্তু প্রত্যেকের অর্থনৈতিক অবস্থা সমান নই। পারিবারিক সকল প্রয়োজন পূরণের পর অতিরিক্ত অর্থ শিক্ষার জন্য ব্যায় করতে খুব কষ্ট করতে হচ্ছে তাদের। তদুপরি ঋনের বোঝা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানায় – শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযথ পাঠদান দিলে তাদেরকে বাহিরে কোন কোচিং এর উপর নির্ভর হতে হবে না। আবার শিক্ষকের কথা অমান্য করলে পরীক্ষায় প্রত্যাশীত ফল হয় না। পরিশেষে অভিভাবকরা বলছেন, সরকারের সকল উদ্যেগ প্রশংসনিয় কিন্তু বাস্তবায়নে কেন জটিলতা দেখা দিচ্ছে এটা তাদের প্রশ্ন?

এ সকল কোচিং সেন্টারের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ কালে দেখা যায় স্পাইডার জালের মত বিস্তার করে আছে জেলা শহরসহ প্রত্যেক উপজেলায়। চারঘাট উপজেলা সদর, সারদা সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবন এবং বিভিন্ন বসত বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলছে কোচিং বাণিজ্য। সারদা, ভারট্রেক্স।

বিভিন্ন কোচিং পরিচালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় দলীয় নেতাদের মদদে চলছে শিক্ষা ব্যবসা।

অপরদিকে সারদা সরকারী কলেজের একটি ভবনে উচ্চ নম্বরের সোপান নামে একটি কোচিং রয়েছে যা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই কোচিং এর পরিচালক জিয়াউল এবং শামিম বলছেন এটা সেবা মূলক অবৈতনিক প্রতিষ্ঠান।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ কালে এপিএস সিরাজুল ইসলাম বলেন, কোন কোচিং সেন্টারের সাথে প্রতিমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা নেই।

চারঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবেদিন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রশিদা ইয়াছমিন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক কোচিং, প্রাইভেট টিউশন যা অর্থ লেনদেন সর্ম্পকৃত কাজে জড়িত থাকতে পারবে না। শিক্ষা অফিস কর্তৃক তদন্ত অব্যহত আছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস ছালাম (ডিপিও) জানান, রাজশাহীসহ ৯টি উপজেলায় ১ হাজার ৫৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। কোচিং বাণিজ্যের সাথে সর্ম্পৃক্তা না থাকার জন্য প্রত্যেক শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া আছে। তদুপরি এ বিষয়ে কোন শিক্ষকের নামে অভিযোগ দাখিল হলে তৎক্ষনাত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন বলেন, সকল শিক্ষদের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের সাথে সর্ম্পৃত্তা বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সূত্র মতে কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্তা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is.

Share on facebook
Share with others
Share on google
Share On Google+
Share on twitter
Share On Twitter
  • You May Also Like:
  • Top Views