ক্রাইস্টচার্চের রক্তাক্ত হামলা নিয়ে এ কেমন টুইট করলেন ট্রাম্প!

১২:১৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, মার্চ ১৬, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে নৃশংস হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুসলিম বিশ্বসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা। তবে সারা বিশ্বের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা পর টুইটারে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তবে বিশ্বের বিভিন্ন নেতা সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা বললেও ট্রাম্পের টুইটে এ সম্পর্কে একটি কথাও বলা হয়নি। এছাড়া টুইটে তার শব্দচয়ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

অবশ্য টুইটের আগেই ট্রাম্পের নাম জড়িয়ে যায় এ রক্তাক্ত হামলায়। কারণ হামলাকারী ব্রেন্টন টেরেন্ট নিজেকে ট্রাম্পের সমর্থক হিসেবে দাবি করেছেন। ২৮ বছর বয়সী ব্রেন্টন একজন অস্ট্রেলিয়ান শ্বেতাঙ্গ।

ক্রাইস্টচার্চের রক্তাক্ত হামলার ঘটনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প যে টুইট করেছেন সেটি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের টুইটটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাধারণত যেসব হামলায় মুসলিম কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকে তাদের ‘সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী হামলা’- ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে থাকেন ট্রাম্প। কিন্তু শুক্রবারের ঘটনার ক্ষেত্রে– যার হামলাকারী নিজেকে ট্রাম্পের শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একজন সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন– এ ধরনের কোনো শব্দ ব্যবহার করেননি।

হামলার ঘটনায় কোনো মুসলিম জড়িত থাকলে সেই হামলাকে ‘ইসলামিক টেরোরিজম’ বলতেই পছন্দ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু স্বঘোষিত শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্থী সন্ত্রাসীর হামলাকে ‘শ্বেতাঙ্গ অধিপত্যবাদী আতঙ্ক’ বলতে নারাজ তিনি। এমনকি হামলায় কে বা কারা জড়িত তাদের আদর্শিক পরিচয় কী- সে বিষয়েও কোনো ইঙ্গিত বা নিন্দা নেই তার টুইটে।

এ ছাড়া ট্রাম্প বলেছেন, ‘৪৯ জন নির্দোষ মানুষ নির্বোধ মারা গেছেন’-এক্ষেত্রেও ডাইড (মৃত্যু বরণ) শব্দের ব্যবহার লক্ষণীয়। অন্যান্য হামলার ক্ষেত্রে তিনি কিল্ড (নিহত) শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন।

একটি ভয়াবহ ঘটনায় স্বজনদের হারানো নিউজিল্যান্ডবাসীর উদ্দেশে ট্রাম্প ‘বেস্ট উইশেশ’ জানিয়েছেন। যদিও কোনো কষ্টের মুহূর্তে কাউকে সমবেদনা জানানোর ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষায় ‘বেস্ট উইশেশ’ শব্দযুগলের ব্যবহার প্রচলিত নয়। তার বদলে সিম্প্যাথি, কনডোলেন্স ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়।

কেউ কেউ ট্রাম্পের টুইটের প্রথম শব্দগুলো নিয়েও আপত্তি তুলছেন। তার টুইটের রিপ্লাইয়ে ইংরেজিভাষী অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন করছেন, ‘জনাব প্রেসিডেন্ট, ওয়ার্মেস্ট সিম্প্যাথি বা (উষ্ণ সমবেদনা!) জিনিসটা আসলে কী?

শুক্রবার রক্তবন্যায় ভাসে শান্তির দেশ নিউজিল্যান্ড। দেশটির অন্যতম নগরী ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যাওয়া মুসল্লিদের ওপর এক শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্থির নির্বিচারে গুলিতে ৪৯ জন নিহত হয়। নিহতের মধ্যে নারীসহ তিন বাংলাদেশি রয়েছেন।

এটাই পশ্চিমা দুনিয়ায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ ও বড় হামলা। সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে যে মসজিদটিতে, সেখানে নামাজ আদায়ে যাচ্ছিলেন নিউজিল্যান্ড সফরকারী বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। অল্পের জন্য রক্ষা পান তারা।