সাবধান! যখন আপনার দেহে আর কাজ করবে না অ্যান্টিবায়োটিক

১১:৪৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৯ আপনার স্বাস্থ্য

আপনার স্বাস্থ্য ডেস্ক :: মানব সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে ও এর সুরক্ষায় চিকিত্‍সাবিজ্ঞান এক অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে। ইতিহাসে অ্যান্টিবায়োটিকের আবিষ্কার অনবদ্য। কিন্তু এটি যখন কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে তখন তা বড়ই চিন্তার বিষয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলের আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ২৩ বছরের রুবেল। খুব জটিল কোনো রোগ নয়, সাধারণ নিউমোনিয়া।

কিন্তু এই অসুখই তাকে ঠেলে দিয়েছে মৃত্যুর মুখে। কেননা সংক্রমণ ঠেকাতে তার দেহে যে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হচ্ছে, কাজে আসছে না তার কোনোটিই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. এম এ হাবিব বলেন, ‘এই রোগীটার ক্ষেত্রে আমরা ২০টি অ্যান্টিবায়োটিক কালচার করেছি। তাঁর মধ্যে ১৯টি অ্যান্টিবায়োটিক তাঁর রেসিস্টেন্স। একটি অ্যান্টিবায়োটিক তাঁর শরীরে কাজ করছে। তা থেকেও তাঁর শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।’

শুধু আইসিইউ, সিসিইউর রোগীরাই নয়, শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সি মানুষের শরীরেই এখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে জীবাণু।

অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতার কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ ৩০০ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করবে। সময়ের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধের চিকিত্‍সা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠবে। অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করলে সামান্য রোগেই মানুষের মৃত্যু ঘটবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের দেশে ঔষধ অত্যন্ত সহজলভ্য এবং মুল্যমান অত্যন্ত কম। যার ফলে কোন ব্যাক্তি ঔষধের দোকানে গিয়ে নিজেও চাইতে পারেন অথবা তাঁর সমস্যার কথা বললে ঔষধের দোকানদার তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দিচ্ছে।’

সরাসরি ওষুধ সেবন ছাড়াও, খাবারের মাধ্যমেও মানুষের শরীরে ঢুকছে অ্যান্টিবায়োটিক। প্রেসক্রিপশন ছাড়া যতদিন না ওষুধ বিক্রি বন্ধ হবে, ততদিন অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ঠেকানো যাবে না বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের নির্বিচার ব্যবহারের লাগাম টেনে ধরতে হবে। না হলে মানুষ ফিরে যাবে অ্যান্টিবায়োটিক আবিস্কারের আগের সময়ে।