কর্ণফুলীতে কি বাজেয়াপ্ত হচ্ছে মাদক কারবারীর দুই ভবন

৯:০৩ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, মার্চ ২৪, ২০১৯ চট্টগ্রাম
houes

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসন কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন চরপাথরঘাটার ইছানগর এলাকায় চিহ্নিত করেছে দুই অবৈধ মাদক কারবারীর সুরম্য অট্টালিকা।

তথ্য রয়েছে, গত মাসে যেখানে উপজেলা প্রশাসন পর পর দুবার অভিযান চালিয়েও কাউকে আটক করতে পারেননি। কেন না সেখানে বাড়ির মালিক পক্ষের কেহ উপস্থিত থাকেন না। ভবনে ভাড়াটে রেখে এরা নগরীর খুলশী ও হাটহাজারীতে বসবাস ও গ্রেফতার এড়াতে কৌশলে চলাফেরা করেন।

অপরদিকে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের মুখে একাধিক ভাড়াটে ইতোমধ্যে দুটি সুরম্য অট্টালিকা ছাড়লেও দুই মাদক ব্যবসায়ী ও তার আত্বীয় স্বজনেরা এসব ভবনকে বৈধ ব্যবসার সম্পদ দাবি করার লক্ষ্যে অভিনব পদ্ধতি ও কৌশল এঁটেছে বলে জানা যায়।

উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও এসব সুরম্য ভবন দুটি মাদকের টাকায় তৈরী করা হয়েছে বলে দাবি তুলেছে। এবং জনগণ এসব সম্পত্তি সরকারের কাছে বাজেয়াপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু আগাম তথ্য পেয়ে আগে থেকেই ভবন মালিকেরা বিভিন্ন ভূয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যেমন মের্সাস সায়েম এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স সিয়াম ট্রের্ডাস সহ লবণ ব্যবসার কাগজপত্র তৈরী করে চট্টগ্রাম উপ কর কার্যালয়ে জমা দিয়েছে বলে একটি বিশস্তসুত্রে খবর পাওয়া গেছে।

অপরদিকে, কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা দেখে এরইমধ্যে ভবন মালিক মোহাম্মদ হোসাইন গত ১৬ ফেব্রুয়ারী কক্সবাজারের টেকনাফ পাইলট স্কুলের মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এবং তালিকাভুক্ত দ্বিতীয় ভবনের মালিক অপর মাদক ব্যবসায়ী হেলাল পলাতক থেকে আত্মসমর্পণের লবিং করছে বলেও একটি অসমর্থিত সুত্রে প্রতিবেদককে জানায়। যে কোন মুহুর্তে তিনিও আত্মসমর্পণ করতে পারেন বলেও তথ্য দেন সুত্রটি।

পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, টেকনাফ থেকে এসে উপজেলার ইছানগর গ্রামে মাদক ব্যবসার টাকায় রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি বানিয়েছে তালিকা ভুক্ত এই দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী।

উপজেলা প্রশাসন সুত্রে আরো জানা যায়, মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীর গড়া ইছানগরের দুই ভবনে থাকা ভাড়াটেদের গত ২৫শে ফেব্রয়ারীর মধ্যে মৌখিক ভাবে বাসা ছাড়ার নির্দেশনা দেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত বেশির ভাগ ভাড়াটে বাসা ছেড়েছে বলে বাড়ির সদস্য স্মৃতি আক্তার জানায়।

দুই ভবনের কেয়ার টেকার ও তত্বাবধায়নে থাকা টেকনাফে সদ্য আত্মসমর্পণকারী মাদককারবারী মোহাম্মদ হোসাইন এর ছোট ভাই আমিন খাঁন এবং তালিকাভুক্ত অপর ইয়াবা ব্যবসায়ী পলাতক থাকা হেলালের শ্যালক মো. ওবায়েদুল্লাহ বাদল এর সাথে কথা হলে দুজনেই জানায়, বাসা ছাড়ার ব্যাপারে তাঁরা কোন লিখিত কাগজপত্র পায়নি। তারপরেও অনেকে ভয়ে চলে গেছে এতে আমাদের কিছু করার নেই।

বিশস্ত সুত্রে জানা যায়, কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসন কতৃক চিহ্নিত দুই মাদক ব্যবসায়ী তাদের অবৈধ আয়ের অর্থ-দিয়ে প্রায় দুই বছর আগে ইছানগর এলাকা হতে জমি কিনেন। এবং দেড় বছর আগে তা রাতারাতি ভবন তৈরী করলে স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও প্রশাসনের নজরে আসে। এদের নামে বেনামে কক্সবাজার সদরেও বহু অর্থ সম্পদ রয়েছে বলেও খবর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাদক বিরোধী অভিযানে নেমে কারবারীদের বাড়িঘর ভাঙ্গতে শুরু করলে কৌঁশলে ইছানগরের দুই মাদককারবারী ভবন বাঁচাতে ব্যাংক লোনের দারস্ত হন। এবং টেকনাফ হ্নীলা শাখার ইউনিয়ন ব্যাংক হতে জমি ও ভবন দেখিয়ে এক কোটি ২০ লক্ষ টাকার লোন নেয় বলে সুত্রে জানা যায়। সব মিলিয়ে জমি কেনা ও এ দুটি ভবন তৈরীতে সর্বমোট প্রায় ১২ কোটি টাকার উপরে খরচ হতে পারে বলে ধারণা রয়েছে।  রহস্য ও প্রশ্ন রয়ে যায় তাদের কোন দৃশ্যমান ব্যবসা না থাকলেও এ টাকার উৎস কোথায়?

প্রসঙ্গত, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করেছেন ১০২ জন মাদক ব্যবসায়ী। পুলিশের হাতে স্বেচ্ছায় ধরা দিয়েছেন এর মধ্যে ৭৩ জন প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারি (গডফাদার)। তাঁদের ৬৬ জনই টেকনাফের বাসিন্দা। এদের মধ্যে একজন কর্ণফুলীর ইছানগরে গড়া সুরম্য অট্টালিকা হাজেরা মঞ্জিলের মালিক মোহাম্মদ হোসাইন।

চট্টগ্রাম দুদক অফিসের উপ পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম জানান, ‘যত কিছুই করুক না কেন সম্পদ বাঁচাতে, বৈধ ব্যবসা ও টাকার সঠিক উৎস কোথায় দেখাতে না পারলে দুদক কাউকে ছাড় দেবেনা। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।’কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘কর্ণফুলীতে তালিকাভুক্ত দুই মাদক ব্যবসায়ীর ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অভিযান চালিয়ে পরে মৌখিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এমনকি তিনি আরো জানান, লিখিত ভাবে আইনী পদক্ষেপের প্রস্তুতি ও দ্রুত ভবন দুটির বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।