লাখো শহীদ স্মরণে, লাখো প্রদীপ হাতে পুলিশ জনতা !

৭:৩১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, মার্চ ২৬, ২০১৯ রাজশাহী
Bogra

এম নজরুল ইসলাম, বগুড়া করেসপন্ডেন্ট: বগুড়ায় লাখো প্রদীপ জ্বালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে। লাখো শহীদ স্মরণে, লাখো প্রদীপ জ্বালো’ স্লোগানে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী সহ সকল শ্রেণিপেশার লাখো নারী-পুরুষ।

২৫ মার্চের কালো রাতে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশ বাহীনির গৌরবোজ্জ্বল অবদান এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায় লাখো শহীদ স্মরনে, লাখো প্রদীপ জ্বালো- এই কর্মসূচীর আয়োজন করে ‘জেলা পুলিশ বগুড়া’।

সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বগুড়া শহরের ঐতিহ্যবাহী আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে মোমবাতি জ্বালিয়ে কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মোখলেসুর রহমান। বক্তব্য রাখেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মেদ, পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার রুহুল আমিন বাবলু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না প্রমূখ।

উদ্বোধনকালে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলেন, পাকিস্তান এসে দেখে যাও কীভাবে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে একত্রে নিয়ে বসবাস করতে হয়। একাত্তরে যেমন বাঙালি গর্জে উঠেছিল, এবারও তেমন জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ পুলিশের রাইফেল গর্জে উঠেছে। বাংলাদেশ জিতেছে, বাংলাদেশ জিতবেই।

কর্মসূচী উদ্বোধনের পরপরই পর্যায়ক্রমে ওই মাঠসহ অন্যান্য স্থানে উপস্থিত লাখো মানুষ তাদের হাতের মোমবাতি জ্বালান। আগাম ঘোষণা অনুযায়ী প্রত্যেকে মোমবাতি নিয়ে ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকেন। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ ছাড়াও পাশের জিলা স্কুল, মাটিডালি, সদর উপজেলা চত্বর, বেসরকারি সংস্থা টিএমএএস চত্বরসহ জেলার বাকি ১১টি উপজেলা সদরে স্কুল-কলেজ ও খেলার মাঠে প্রদীপ জ্বালো কর্মসূচি পালন করা হয়।

এদিকে আমাদের নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি জানান, জেলা পুলিশ বগুড়ার অংশ হিসেবে একই সময়ে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশের আয়োজনে স্থানীয় মনসুর হোসেন ডিগ্রী কলেজ মাঠে মোমবাতি হাতে অংশ নেন সকল শ্রেণিপেশার মানুষ। পুরো কলেজ মাঠ মোমবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন- পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক সহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ ছিলেন এক-কাতারে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কর্মসূচীতে মানুষের ঢল নামে।