মাশরাফির মতো কাঁদলেন তাসকিনও

৪:২৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৬, ২০১৯ Uncategorized

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়ার দুঃখে ২০১১ সালে কেঁদে ছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ইনজুরিপ্রবণ, তার ওপর বিশ্বকাপের কিছুদিন আগেই ইনজুরি থেকে ফিরেছিলেন মাত্র- এ কারণেই তখনকার কোচ জেমি সিডন্স মাশরাফিকে দলে রাখেননি।

মাশরাফির কান্না সেদিন ছুঁয়ে গিয়েছিল বিসিবি একাডেমি মাঠে উপস্থিত সব সাংবাদিককে। মাশরাফির চোখের পানির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল অনেকেরই চোখের পানি।

২০১১ সালের পর কেটে গেছে আরও একটি বিশ্বকাপ। ২০১৫ বিশ্বকাপে মাশরাফি ছিলেন অধিনায়ক। নতুন বল হাতে তার সঙ্গী ছিলেন আরেকজন তরুণ, এক্সপ্রেস বোলার তাসকিন আহমেদ। অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মাটিতে গতির ঝড় তুলেছিলেন তিনি। উইকেট নেয়ার আনন্দে মাশরাফির সঙ্গে তাসকিনের সেই চেস্ট বাম্প এখনও সবার চোখে ভাসে।

এবার দুয়ারে উপস্থিত আরও একটি বিশ্বকাপ। ২০১১ সালের সঙ্গে সময়ের ব্যবধান আট বছর। আট বছর পর আবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার মাশরাফির জায়গায় তাসকিন। বিশ্বকাপের দলে সুযোগ না পাওয়ার কষ্টে কেঁদেই ফেললেন তিনি।

আসন্ন বিশ্বকাপ সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই স্কোয়াডে জায়গা হয়নি পেসার তাসকিন আহমেদের। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের জন্য দলে জায়গা পাওয়ার প্রতীক্ষায় থাকেন প্রত্যেক ক্রিকেটার। কিন্তু দীর্ঘদিন অফফর্ম এবং ইনজুরি কাটিয়ে বিপিএলে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স করলেও শেষ পর্যন্ত তাসকিনের জায়গা হলো না বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার সময় ছিলেনও না তাসকিন আহমেদ।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে যান তাসকিন আহমেদ। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।

তাসকিন বলেন, ‘আমার কিছু বলার নাই। তারা (নির্বাচক) যা ভালো মনে করেছে তাই করেছে। এই আড়াই মাস আমি যা কষ্ট করেছি, আমি আর কখনো এমন কষ্ট করি নাই।’

পরে আরেক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আবারো চোখের পানি মোছেন তাসকিন। বলেন, ‘ঠিক আছে। সবাই দোয়া করবেন আমার জন্য।’ বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তাসকিন।

এবারের দলে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাসহ অধিকাংশ নাম ছিল অনুমেয়। চোট পাওয়া পেসার তাসকিন আহমেদ ও অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের দলে থাকা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল আগে থেকেই। সাইফউদ্দিন ডাক পেলেও সুযোগ হয়নি তাসকিন আহমেদের। পেস আক্রমণে সুযোগ পেয়েছেন আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী। স্কোয়াডে তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যার এখনো ওয়ানডে অভিষেক হয়নি। বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচটি টেস্ট আর তিনটি আন্তর্জাতিক টি-২০ খেলেছেন তিনি।

স্পিনার হিসেবে থাকছেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটিং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকেও রাখা হয়েছে দলে।

সুযোগ হয়নি ওপেনার ইমরুল কায়েসের। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে আছেন তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার আর লিটন কুমার দাস। মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যান আছেন মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর সাকিব আল হাসান।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন সাত ক্রিকেটার। এরা হলেন মোসাদ্দেক, লিটন, মিঠুন, আবু জায়েদ, সাইফউদ্দিন, মুস্তাফিজ আর মিরাজ।

Loading...