সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নুসরাত হত্যার ঘটনায় শরীফের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

১:৫১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৯ চট্টগ্রাম
feni

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ  মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মো. আবদুর রহিম ওরফে শরীফ (১৯) নামে এক তরুণ।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল এসপি মো. ইকবাল গণমাধ্যমকে শরীফের স্বীকারোক্তির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

শরীফ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় হত্যাকারীদের নিরাপত্তায় মাদ্রাসার গেট পাহারায় ছিলো শরীফ।

এসপি মো. ইকবাল জানান, আবদুর রহীম শরীফ আদালতের কাছে স্বীকার করেছে, সে ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ঘটনার দিন সে হত্যাকারীদের নিরাপত্তায় মাদ্রাসার গেট পাহারায় ছিলো।

এর আগে আটককৃত মামলার অন্যতম দুই আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে শরীফকে বুধবার সকালে ঢাকার কামরাঙ্গীর চর থেকে আটক করা হয়। নুসরাতের ওপর আগুন দেওয়ার সময় শরীফ ভবনের গেটে পাহারারত অবস্থায় ছিলেন বলে জানান তারা।

গত ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় তারা।

পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা যান।

এদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার জানান, তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িত পরোক্ষদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। 

এরই মধ্যে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করতে থানায় যাওয়ার পর নুসরাতের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ায় সোমবার (১৫ এপ্রিল) সোনাগাজী থানার ওই সময়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করা হয়েছে। এ মামলাও তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত।