বাবাকে হাসপাতালে রেখে নিথর দেহে ফিরে এল জায়ান

১:৫৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ছোট্ট শিশু জায়ান। বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখতে গিয়েছিল দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হলেও রাজনীতির আগুনের আঁচ তার দেখা ছিল না। বৈশ্বিক রাজনীতির প্যাঁচের সাথে ন্যূনতম সম্পর্কও তার হয়নি। ধর্ম বর্ণ রাষ্ট্র নিয়ে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ কিভাবে হয় তাও তার জানা হয়নি। সেই ভেদাভেদের আগুনে পুড়েই শেষ হয়ে যেতে হলে নিষ্পাপ শিশু জায়ানকে। হাসপাতালে এখনও ভর্তি তারা বাবা মশিউল হক চৌধুরী।

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলায় নিহত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ানের মরদেহ আজ দুপুরে ঢাকায় পৌঁছেছে।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে আট বছর বয়সী জায়ানের মরদেহ বহনকারী বিমানটি। শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর ইউএল ১৮৯ যোগে আনা হয় শিশু জায়ানের মরদেহ।

পরে দুপুর ১.৮ মিনিটে মরদেহ নিয়ে বনানীর বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেন জায়ানের স্বজনরা। শ্রীলংকা থেকে আসা জায়ানের মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে যান তার নানা শেখ সেলিমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। আসরের পর বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি মাঠে জানাজা শেষে তাকে দাফন হবে বনানী কবরস্থানে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাংসদ শেখ সেলিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাত ভাই। সেলিমের মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া তার স্বামী মশিউল হক প্রিন্স ও দুই ছেলেকে নিয়ে শ্রীলঙ্কায় গিয়েছিলেন বেড়াতে।ইস্টার সানডের প্রার্থনার মধ্যে রোববার গির্জা ও হোটেল মিলিয়ে আটটি স্থানে বোমা হামলায় রক্তাক্ত হয় শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো।

এর মধ্যে একটি হোটেলে উঠেছিল ওই পরিবার। হামলার সময় হোটেলের নিচতলার রেস্তোরাঁয় সকালের নাস্তা করতে গিয়েছিলেন প্রিন্স ও তার বড় ছেলে জায়ান। ছোট ছেলে জোহানকে নিয়ে শেখ সোনিয়া ওই সময় হোটেলের কক্ষে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সন্ধ্যায় ব্রুনেইয়ে প্রবাসীদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিজের স্বজনদের বোমা হামলার শিকার হওয়ার কথা জানান। প্রিন্স হাসপাতালে আর জায়ান নিখোঁজ জানিয়ে সবার দোয়া চান তিনি। পরে রাতে জায়ানের মৃত্যুর খবর ও তার বাবা আহত হওয়ার খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ওই পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন।

শিশু জায়ান ছিল পরিবারের মধ্যমণি। পরিবার তো বটেই নানাবাড়ি-দাদাবাড়ির সব আত্মীয়র প্রিয়মুখ ছিল জায়ান। সবার সঙ্গে মিশতে পারত ছোট্ট জায়ান।বাসায় এলেই নানা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে উঠত সে। রাজনৈতিক শত ব্যস্ততার মাঝেও শেখ সেলিম নাতির জন্য সময় বের করতেন। তার প্রতি অন্যরকম একটা টান সবসময় অনুভব করতেন। ফুটফুটে নাতিকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল শেখ সেলিম।

জায়ান চৌধুরী নিহত হওয়ার খবরে সর্বত্র নেমে আসে শোকের ছায়া। রোববার রাতে এ খবর প্রকাশের পর দলমত নির্বিশেষে সবাই শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। শোকের ছায়া নেমে আসে বনানীর বাড়িটিতে।

এ বাড়িতেই নানা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, নানি, দুই মামা- শেখ ফজলে ফাহিম ও শেখ ফজলে নাঈম, মা শেখ আমেনা ফজলুল করিম সোনিয়া, বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে থাকত জায়ান। সারাক্ষণ ক্রিকেট খেলে মাতিয়ে রাখত সে। নানা-নানি, মামা-মামি, বাবা-মা এমনকি বাড়ির দারোয়ান-কেয়ারটেকারদেরও প্রিয় ছিল জায়ান। ক্রিকেট খেলায় সবার সঙ্গে গড়ে ওঠে তার সখ্য।