কক্সবাজারে বিল বকেয়া থাকার অভিযোগে কয়েকটি মসজিদে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

১০:১৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৯ চট্টগ্রাম
bill

তাহজীবুল আনাম, কক্সবাজার- কক্সবাজার শহরের কয়েকটি মসজিদে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এতে মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সমালোচনা হতে দেখা গেছে। অনেকে বিদ্যুৎ বিভাগকে ‘গালমন্দ’ করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস ও কমেন্টস করেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) যুহরের নামাজের সময় কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি অফিসের জামে মসজিদ ও রুমালিয়ারছরা জামে মসজিদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগ।

এম.ইব্রাহিম খলিল মামুন নামের এক সংবাদকর্মী নিজের ফেসবুকে লিখেছেন- ‘কক্সবাজার শহরের একটি মসজিদে শতাধিক মুসল্লি দুপুরে নামাজরত অবস্থায় বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।’

তিনি লিখেছেন- ‘বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অভিযোগে এ সংযোগ কেটে দেয়া হয় অথচ কক্সবাজার শহরে কয়েক হাজার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। এসব অবৈধ সংযোগ দিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।’
তার কমেন্টে অনেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

আজমল হোসাইন লিখেছেন -‘বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকলে মসজিদ হেতু নোটিশ দিয়ে কাটা উচিৎ বলে মনে করি।’
মুহাম্মদ আবদুল্লাহ নামের একজনের কমেন্ট হলো -‘এরা ইসলামের দুষমন। সামনের মাসে পবিত্র রমজান। দেখবেন, ইফতার এবং তারাবির নামাজের সময় বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিবে হারামির বাচ্চারা।’

মুহাম্মদ ফেরদাউস লিখেছেন -‘আজই ১২ টার দিকে রুমালিয়ার ছড়া জামে মসজিদের লাইনও কেটে দিয়েছে। শুনলাম কক্সবাজার শহরে আরো ৪-৫ টা মসজিদের লাইন কেটে দিয়েছে। এই বকেয়া বিলগুলো এরশাদ সরকারের আমলে মওকুপ করা বিল।’ শহরের ফায়ার সার্ভিস এলাকার ব্যবসায়ী অলি আহমদ জিয়া দোয়া করে লিখেন-‘আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত দাও।’ কাজী হাবীব উল্যাহ সুমন মসজিদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকারীদের ‘কুকুরের মত পিটানো দরকার’ মন্তব্য করেছেন।

নামাজের সময় কেন মসজিদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো? জানতে চাইলে কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ ও উন্নয়ন বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রিয়াজুল হক বলেন, ‘কক্সবাজার শহরের অধিকাংশ মসজিদ/মন্দিরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নাই। কিন্তু কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন জামে মসজিদের ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৫৫ টাকা এবং রুমালিয়ার ছরা জামে মসজিদের ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭২২ টাকা বকেয়া রয়ে গেছে। অনেকবার সময় নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধ করেনি। তাই লাইন কেটে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যুহরের নামাযের পর (দুপুর ০২:০৫ মিনিটে) কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি অফিসের জামে মসজিদ ও রুমালিয়ার ছরা জামে মসজিদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট মসজিদের সভাপতি কর্তৃক বিল পরিশোধের আশ্বাস এবং ধর্মপ্রান মুসল্লিদের কথা বিবেচনা করে নির্বাহী প্রকৌশলী বিদুৎ সংযোগ দু’টি প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর পুণঃসংযোগ দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, এরশাদ সরকারের আমলে কোন মসজিদ/মন্দিরের বিল মওকুফ করেন নাই। বিল মওকুফ সংক্রান্ত কোন প্রজ্ঞাপন কারো কাছে থাকলে অনুগ্রহ পুর্বক উপস্থাপন করুন। তবু লাইন কাটার কারণে সাময়িক অসুবিধার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

বকেয়া বিলের বিষয়ে কঠোরতার ব্যাপারে প্রকৌশলী রিয়াজুল হক বলেন, আগামী জুন মাসের মধ্যে সরকারী, বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিদ্যুৎ আদায়ের জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিল খেলাপি সবাইকে নোটিশ দেয়া হবে।