ঋণখেলাপিদের মাফ করে দেয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

১১:২১ অপরাহ্ণ | রবিবার, এপ্রিল ২৮, ২০১৯ অর্থনীতি

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ঋণখেলাপিদের মাফ করে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। সব ব্যবসায়ীকে জেলে পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতি চালানো যাবে না। তবে আবার সবাইকে মাফও করা যাবে না। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হয়ে যান তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অ্যাকশন অবশ্যই নিতে হবে, আমাদেরকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে।

গতকাল জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে মোকাব্বির খানের (সিলেট-২) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বেই ঋণখেলাপিদের মাফ করে দেয়ার ব্যবস্থা আছে। আমাদের দেশে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আইন কার্যকর ছিল না। যে কারণে ব্যাংকে একবার ঢুকলে সেখান থেকে বের হওয়ার পথ নেই। তাই আমরা আইনগুলো কার্যকর করে সেই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করে সবাইকে এখান থেকে মাফ করার ব্যবস্থা করব।

তিনি আরো বলেন, যদি ব্যাংকিং খাত স্বাভাবিকভাবে চলতে না পারে, যদি ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে যায় এবং নন-পারফর্মিং লোনের পরিমাণ বেড়ে যায়, তাহলে আমরা আমাদের অর্থনীতির গতিশীলতা থেকে বিচ্যুত হবো। আমরা সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমাদের ব্যাংকগুলোর সুদহার কমাব। সুদহার কমানো না গেলে নন- পারফর্মিং লোন কমবে না। এ ধরনের লোন বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখা করে মন্ত্রী বলেন, নন-পারফর্মিং লোন তখনই বেড়ে যায়, যখন লোন নিয়ে তারা পরিশোধ করতে পারেন না। নন-পারফর্মিং লোনের কারণে সুদহার অনেক বেশি। যখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা ঋণ পরিশোধ করতে পারে না, তখন সঙ্গত কারণেই ঋণখেলাপি হয়ে যায়। ঋণখেলাপি রেখে ব্যাংক শিটগুলো খুবই দুরবস্থার মধ্যে আছে, সেগুলোকে যদি পরিষ্কার না করি তাহলে এগুলো আরো খারাপ হয়ে যাবে। এ জন্য সুদহার মোটামুটি সহনশীল অবস্থায় নিয়ে আসছি। সেটা আনতে পারলেই আমরা সফল হবো। আমাদের কর্মসংস্থান বাড়বে, শিল্পকারখানাগুলো বেঁচে যাবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সবার স্বার্থে এ কাজটি করতে যাচ্ছি। এর মধ্যে অনেক বিতর্ক হচ্ছে, অনেকে অনেক রকম কথা বলছেন। আমরা খেলাপি ঋণ মাফ করে দিচ্ছি। সারা বিশ্বেই মাফ করে দেয়। আমাদের দেশে কিন্তু মাফ করার ব্যবস্থা ছিল না। কারণ, আমাদের দেশে দেউলিয়া আইন এবং ব্যাংক অরবিট্রেশন ব্যবস্থা যেগুলো আছে সেগুলো কার্যকর ছিল না। সে জন্য একবার কেউ ব্যাংকে ঢুকলে সেখান থেকে আর বের হওয়ার পথ ছিল না। আমরা আইনগুলো কার্যকর করে তার আওতায় একটা ইকুইটেবল পরিস্থিতি তৈরি করে সবাইকে মাফ করার, এখন থেকে বের করে আনার ব্যবস্থা করব।

Loading...