দুর্গম পাহাড় থেকে হেলিকপ্টারে এনে প্রসূতির প্রাণ বাঁচাল সেনাবাহিনী

১২:৩৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৯ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর, চট্রগ্রাম- ভারত-মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রাম বগাখালী। দুর্গম এই গ্রামে খুব বেশি নাগরিক সুবিধার পৌঁছেনি। গ্রামটি রাঙ্গামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। ওই গ্রাম থেকে হেঁটে ও নৌকায় জেলা সদরে আসতে সময় লাগে প্রায় ৩/৪ দিন।

যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে একমাত্র নৌযোগাযোগই ভরসা। সড়কপথ নেই বললেই চলে। পাহাড়ের গা ঘেঁষে কিছু পথ থাকলেও সেই পথ দুর্গম। মারাত্মক এই দুর্গম পথে সহজে কোন মানুষ চলাচল করে না।

জুরাছড়ি উপজেলার বগাখালী নামক সেই গ্রামের গরিব ও অসহায় ঈশ্বর চন্দ্র তনঞ্চংগ্যার স্ত্রী জতনী তনঞ্চংগ্যা (২৩) গত চারদিন ধরে প্রসব বেদনায় ভুগছিলেন। মুমূর্ষু এই জতনীকে দ্রুত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন সেনাবাহিনী।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে প্রাণে বাঁচিয়েছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত চার দিন ধরে এই নারী নিজ ঘরে প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে ডাকা হয়েছিল ধাত্রীকে। ধাত্রী প্রসব করাতে ব্যর্থ হন। কিন্তু কাছাকাছি কোনো হাসপাতাল না থাকায় একপর্যায়ে তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না বলেই ধরে নিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে সোমবার সকালে জতনিকে বগাখালীতে বিজিবি’র সীমান্ত চৌকিতে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এই প্রসূতিকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন।

দুপুর ২টার দিকে হেলিকপ্টার সেনানিবাসে অবতরণের পর দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে জতনিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। জতনি’র শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

এর আগে, গত ৩১ ডিসেম্বর একই গ্রাম থেকে সোনাপতি চাকমা নামে আরও এক প্রসূতিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে এনে প্রাণ বাঁচায় সেনাবাহিনী।

Loading...