রাতেই শেষ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা, ইলিশ ধরতে প্রস্তুত পদ্মা-মেঘনার জেলেরা

৬:৫৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৯ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

আশিক বিন রহিম, চাঁদপুর প্রতিনিধি- আজ রাত ১২ টা ১ মিনিটেই উঠে যাচ্ছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এরপরপরই আবারও জল আর জালের সাথে প্রণয়ে মেতে উঠতে পদ্ম-মেঘনা পাড়ের জেলেরা।

বিস্তৃত পদ্ম-মেঘনার বিশাল জলরাশিজুড়ে দেখা মিলবে শত শত ছোট-বড় জেলে নৌকা। ইঞ্জিনের শব্দ আর জেলেদের মুখের হাসিতে হেসে উঠবে বিস্তৃর্ণ নীল আকাশটাও। পুরোনো জাল সেঁলাই আর নতুন জাল তৈরী করতে করতে। এমনই সব স্বপ্নের জাল বুনছে এখন চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা পাড়ের অর্ধলক্ষাধিক জেলে পরিবার।

চাঁদপুর সদরের দোকানঘর, বহরিয়া, হানারচর, হরিণা, আনন্দবাজারসহ বেশকিছু জেলে পাড়াগুলো ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। এসব এলাকার জেলেরা নৌকা ও জাল মেরামত এবং নতুন করে জাল তৈরী করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জানা যায়, সরকার জাতিয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার এলাকায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস ইলিশসহ সকল ধরণের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে। এই সময় নদীতে সকল প্রকার মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মওজুদ ও সরবরাহ আইনত দন্ডনীয়। এ কারণে জাটকা রক্ষা কর্মসূচী বাস্তবায়নে দুই মাস পদ্মা-মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করছেন জেলা ট্রাস্কফোর্স। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য অল্প সংখ্যক মৌসুমি অসাধু জেলে ইলিশের পোনা জাটকা নিধনযজ্ঞে মেতে উঠেন। আর তাদের ব্যবহার করে নদীপাড় কেন্দ্রিক মৌসুমি কিছু আড়তদার, দাদনদার এই দুই মাসে কামিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। জনবল সংকট হওয়ার কারণে জাটকা রক্ষা কর্মসূচী শতভাগ সফল করা সম্ভব হয়না প্রশাসনের।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এবছর মার্চ-এপ্রিল ২মাস জাটকা নিধনরোধে জেলা ট্রাক্সফোর্স সর্বমোট নদী, হাটবাজার ও মাছের আড়তে সর্বমোট ৪শ’ ৫৮ অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে সর্বমোট ২ কোটি ৭২ লক্ষাধিক নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ১ লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন জাটকা জব্দ করা হয়েছে।

অপরদিকে এসব অভিযানে ১শ’ ০৫ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১শ’৭১টি মামলা, ১শ’ ৪৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৭শ’ ৪০ টাকা জড়িমানা আদায় করা হয়েছে। চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকতা মো. মাসুদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার হানাচর ইউনিয়নের নদীপাড় কেন্দ্রীক জেলে পাড়াগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে জেলেদের জাল ও নৌকা মেরামত করার কাজে ব্যস্ততা।

হরিণা ফেরীঘাট এলাকার জেলে জলিল গাজী জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা সময়ে তারা নদীতে মাছ আহরণ করেন না। সরকারে যেটুকু সহযোগিতা করেন, তা দিয়ে কোনরকমভাবে তাদের সংসার চলে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেই তারা মাছ আহরণে নামবেন। সেই জন্যে অপেক্ষার প্রহর গুনার পাশাপাশি জাল ও নৌকা প্রস্তুত করছেন।

লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া এলাকার জেলে জব্বার গাজী জানান, তারা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানলেও কিছু মৌসুমি জেলে তা না। তারা রাতভর এমন কি দিনের বেলাতেও অবাদে জাটকা নিধন করেন। আর এ কাজের সাথে দ নৌ-পুলিশ জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এজন্য তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই ধরনের অভিযান কিংবা জাটকা রক্ষা কর্মসূচী দিয়ে কি লাভ হবে এমন মন্তব্য জেলে আনোয়ার হোসেন এর।

একই এলাকার জেলে শাহজাহান গাজী জানান, অভয়াশ্রমের দুই মাস তারা নদীতে মাছ আহরণ করেন না। সরকার এই সময়ের জন্য ফেব্রুয়ারী থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রত্যেক জেলেকে ৪০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা হিসেবে যে চাল দেন, সেটা তারা পেয়ে আসছেন। কিন্তু তাদের পেশা জেলে হওয়ার কারণে এই সময়ে অন্য কোন কাজে যোগদেন না। ১ এপ্রিল থেকে মাছ আহরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদি আল্লাহর ইচ্ছা থাকে তাহলে ইলিশ পাবেন এমন আশা আকাঙ্খা তাদের। তবে জাটকা নিধনের কারণে ইলিশ উৎপাদন কমে যায় এমন ক্ষোভ প্রকাশ করলেন জেলে শাহাজাহান গাজী।

Loading...