বাম্পার ফলন, বাউফলের মুগ ডাল যাচ্ছে জাপান!

৫:০৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, মে ১, ২০১৯ অর্থনীতি, সাফল্যের বাংলাদেশ

কৃষ্ণ কর্মকার. বাউফল প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মুগডাল যাচ্ছে জাপান। বিগত কয়েক বছর ধরে জাপান ডাল রপ্তানী হওয়ায় কৃষকরা দামও পাচ্ছেন বেশি। এ কারণে কৃষকরা আমন ধান চাষের পর পরই তারা মুগডাল চাষে উৎসাহী হয়ে উঠছেন। আবাহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলনও হচ্ছে বাম্পার। ফলে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

বাউফল কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২৫ হাজার হেক্টর ডাল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে চাষ হয়েছে ২৭ হাজার হেক্টরেরও বেশী জমিতে। এরমধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগই উফশী (উচ্চ ফলন শীল) জাতীয়। দেশের সকল উপজেলার মধ্যে বাউফল উপজেলায় সব চেয়ে বেশি মুগ ডাল উৎপাদিত হয়। আমনধান চাষের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদিত ফসল হিসেবে মুগ ডাল চাষ করা হয় এ উপজেলায়। বাউফলের চরাঞ্চলসহ বিস্তৃর্ণ এলাকাজুরে এখন শুধু মুগ ডালের ক্ষেত চোখে পড়ছে।

বিগত আট বছর ধরে দেশের কয়েকটি বেসরকারী সংস্থার মাধ্যমে জাপান প্রতি বছর এক থেকে দেড় হাজার টন মুগ ডাল ক্রয় করে থাকেন। জাপানে বাংলাদেশি মুগ ডালের রয়েছে বেশ চাহিদা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, জাপনিরা মুগ ডাল বিভিন্ন রকমে খেয়ে থাকেন। তারা ডালকে পানিতে ভিজিয়ে অঙ্কুরোদগম করেন। এরপর ওই অঙ্কুরোদগম নানা স্বাদের রান্না করে ও অঙ্কুরোদগমকে পাউডার করে স্যুপ তৈরী করে থেয়ে থাকেন। মুগ ডালে রয়েছে মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন।

যেমন- শর্করা, চিনি, খাদ্য আঁশ, স্নেহ পদার্থ, প্রোটিন সমূহ, ক্যালসিয়াম, লোহা, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, পটাশিয়াম এবং দস্তা। এ কারণে জাপানিরা এ খাদ্যটিকে বিভিন্ন স্বাদের খেয়ে থাকেন।

উপজেলার সুলতানাবাদ গ্রামের চাষী সেরাজ মাতবর বলেন, প্রাকৃতিক বিভিন্ন প্রতিকুলতা কাটিয়ে অধিক লাভবান হওয়ার আশায় অনেকই এ বছর রবিশস্য মুগডাল চাষে আগ্রহী হয়েছেন। মুগডাল চাষ করে সফলতাও পেয়েছেন তারা। মুুুুগডালের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা।

উপজেলার দাসপাড়া গ্রামের কৃষক মো. আমিন মিয়া জানান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের বারি মুগ-৬ জাতের বীজ রোপন করে তারা এ বছর বাম্পার ফলন পেয়েছেন। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় সর্বশেষ এক পশলা বৃষ্টির কারনে কৃষকরা বছর একই ক্ষেত থেকে দুই থেকে তিনবার ফসল ঘরে তুলবে।

তবে একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, বীজ রোপনের প্রথম দিকে প্রচন্ড খরা-অনাবৃষ্টি থাকায় কিছু বীজ অঙ্কুরোদগম হয়নি। পরবর্তিতে ওই বীজ গুলো বৃষ্টির পানি পাওয়ায় ভালো ফলন হয়েছে।

উপজেলার চরকান্দা গ্রামের চাষী শংকর হাওলাদার জানান, এ বছর মুগ ডালের দাম প্রতি মন ২৬০০-২৮০০শ টাকা। এক একর জমিতে মুগ ডাল চাষ করতে মোট খরচ হয়েছে ৩ হাজার টাকা। প্রতি একরে এ বছর ফলন হয়েছে ৫-৬মন। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৪ হাজার টাকা। তিনি আরও জানান প্রতি একরে লাভ হয়েছে প্রায় ৯-১০ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম. মনিরুজ্জামান জানান, বাউফলে মুগ ডাল চাষ কৃষকদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত খুলে গেছে। উপজেলার কৃষকরা সঠিক পদ্বতিতে চাষ করায় তারা অধিক লাভবান হচ্ছে। একই সাথে বিশ্ব বাজারে বাউফলের মুগ ডাল স্থান করে নিয়েছে।