তিনিই সুদানের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী?

৭:৪০ অপরাহ্ণ | রবিবার, মে ৫, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একজন কঙ্কালসার বৃদ্ধ একটি নির্জন কক্ষে করুণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছেন। শুভ্র চুলের এই লোকটির সারা গায়ে ধুলা। তিনি যেখানে বসে আছেন সেই জায়গাটিও ধুলাবালিতে একাকার।

তবে অবাক করার বিষয় হলো, একখণ্ড কাপড় পরিহিত এই বৃদ্ধ নাকি আফ্রিকার দেশ সুদানের সাবেক সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী কর্নেল ইব্রাহিম চামসাদিনের!

আফ্রিকাভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, সম্প্রতি দেশটির একটি মসজিদের নিচে অবস্থিত একটি কারাগারের একটি নির্জন কক্ষে তার সন্ধান পাওয়া গেছে। অথচ সুদান সরকারের দাবি, বিমান দুর্ঘটনায় ২০০৮ সালের ১১ জুন মারা যান কর্নেল ইব্রাহিম।

এদিকে ভাইরাল হওয়া ছবিটিতে দেখা যায়, রোগা-মলিন চেহারায় অপুষ্টিতে ভোগা একজন বৃদ্ধ খালি শরীরে বালির উপর বসে আছেন। তার পরনে একটি জীর্ণশীর্ণ লুঙ্গি। অসহায় দৃষ্টিতে তিনি তাকিয়ে আছেন ক্যামেরার দিকে।

ছবিটিতে দেখা যায়, অন্ধকারে আলো ফেলে ছবি তোলা হয়েছে। সাবেক এই মন্ত্রীকে আটকে রাখা স্থানটি একটি গুহা। সেই সাথে ইব্রাহিম ছামসাদিনের ঘুমন্ত অবস্থার ছবিও প্রকাশ পায়। সেখানে দেখা যায়, এক টুকরো কাঠের উপর মাথা রেখে বালির উপর শুয়ে আছেন সুদানের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

জানা যায়, সুদানের স্বৈরশাসক ওমর আল-বশির তার অবৈধ শাসনের প্রতিবাদ করায় ১৯৯৫ সালে দেশটির তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইব্রাহিম ছামসাদিনকে জেলে পাঠান। শুধু তাই নয়, ২০০৮ সালে সুদান সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করে যে, সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইব্রাহিম ছামসাদিন বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

তবে ঘটনা আসলে কোনটা সত্য। সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী কি সত্যিই মারা গেছেন? নাকি সম্প্রতি তাকে নির্জন একটি কক্ষে বন্দি অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে। মূলত ফেমি ফেনি-ক্যাইওড নামে একজন নাইজেরীয় রাজনীতিবিদের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত।

রাজনীতিবিদ টুইটে ছবির ক্যাপশন হিসেবে লিখেন, সুদানের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইব্রাহিম চামসাদিনকে একটি নির্জন কক্ষে সম্প্রতি খুঁজে পাওয়া গেছে। অথচ স্বৈরশাসক বশির সরকার মিথ্যা ঘোষণা দেয় যে, ২০০৮ সালে বিমান দুর্ঘটনায় তিনি মারা গেছেন।

তবে বিতর্কিত ছবিটি সুদানের সাবেক সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইব্রাহিম চামসাদিনের নয় বলে দাবি করেছে পূর্ব-আফ্রিকার অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান পেসাচেক। তারা বলছে, চলতি বছরের মার্চে কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ খরার কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। বিবিসির সাংবাদিক রনক্লিফ ওডিট দুর্ভিক্ষের সংবাদ কাভার করতে গিয়ে ছবিগুলো তোলেন।