সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

তানোরে ফণীর প্রভাবে পানির নিচে ধান, কাটতে পারছে না শ্রমিক সংকটে

৪:৩৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, মে ৬, ২০১৯ দেশের খবর, রাজশাহী

অসীম কুমার সরকার, তানোর (রাজশাহী)সংবাদদাতা: ঘূর্ণিঝড় ফণির ঝড়বৃষ্টিতে মাঠভরা পাকা ধান পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ক্ষেতে পাকা ধান পানি মধ্যে শুয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিপাকে কৃষক। আর এই বিপাকে ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে ধান কাটা শ্রমিক সংকট।

এদিকে ধানের দাম কম। অন্যদিকে ধানকাটা শ্রমিক যা পাওয়া যাচ্ছে তাও মজুরী বেশী। এ নিয়ে কৃষক রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়েছে। র্নিঘুম রাত পার করছেন কৃষক ঘরে কাঙ্খিত ফসল তুলতে না পেরে।

গোল্লাপাড়া গ্রামের জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, বিঘা প্রতি ধান পেয়েছি ২০মন। বাজার দর ৫৫০ টাকা। সে হিসেবে দাম লাগে ১১ হাজার টাকা। অথচ বিঘা প্রতি চাষবাদ করতে খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে ১ হাজার টাকা। শুধু তাই নয় ধান কাটা শ্রমিক সংকটের কারণে ক্ষেতের পাকা ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। দুইবেলা খাবার ও ৫শত টাকা মজুরী দিয়েও ধান কাটা শ্রমিক মিলছে না।

তানোর পৌর এলাকার গুবিরপাড়া গ্রামের কৃষক আসগর আলী বলেন, ফনির ঝড়বৃষ্টিতে পাকাধান পানবন্দি হয়ে ক্ষেতে শুয়ে পড়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে তা ঘরে তুলতে পারছেন না। তবে রবিবার থেকে আকাশ পরিস্কার ও রোদ্রের তাপ বৃদ্ধি হওয়ায় তিনি স্বস্তি পাচ্ছেন বলে জানান।

তানোর উপজেলাসহ পুরো বরেন্দ্র অঞ্চলে শনিবার সকাল থেকে কখনো মাঝারি আবার কখনো ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া হয়েছে। তবে এতে তেমন কোনো ক্ষতি না হলেও বৃষ্টি ও দমকা ঝড়ো হাওয়ায় বোরো ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে।

গোল্লাপাড়া এলাকার কৃষক ওহাব সরদার বলেন, কৃষি বিভাগের সতর্কবার্তা পাওয়ায় আট বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে। কিন্তু এখনো ১৪ বিঘা জমিতে পাকা ধান রয়েছে। বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা যায়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাব যতটা মনে করা হয়েছিল ততটা হয়নি। তবে শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরী বেশি হওয়ার কারণে ধান উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছি। যার ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবওহায়া এখন অনুকূলে থাকায় কৃষক ঘরে ধান তুলতে পারবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।