• আজ ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞে শতভাগ সমর্থন ট্রাম্পের!

১০:২১ অপরাহ্ণ | সোমবার, মে ৬, ২০১৯ আন্তর্জাতিক
trump

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ৪ মে থেকে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ ২৭ জনকে হত্যা করেছে দখলদার বাহিনী। এমন তাণ্ডবের মধ্যেই রবিবার গাজায় ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞে শতভাগ সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আবারও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামাস ও ইসলামিক জিহাদের ভয়াবহ রকেট হামলার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। নিজ নাগরিকদের রক্ষায় আমরা ইসরায়েলের প্রতি শতভাগ সমর্থন জানাচ্ছি।

ট্রাম্প বলেন, গাজাবাসীরা জেনে রাখ, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তোমাদের আরও দুঃখ ছাড়া আর কিছুই দেবে না। সহিংসতা বন্ধ কর এবং শান্তির পথে কাজ কর। এটা সম্ভব!

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে ২৬০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। আর ফিলিস্তিনি ভূমি থেকে ৬০০ রকেট হামলা চালানো হলেও বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে। ওই রকেট হামলায় তিন ইসরায়েলি মারা গেছে।

এদিকে ফিলিস্তিনি ভূমিতে হামলা জোরালো করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘গাজা উপত্যকায় সন্ত্রাসী উপাদানের ওপর ব্যাপক হামলা অব্যাহত রাখতে’ সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাজার চারদিকে থেকে ট্যাংক, কামান ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হবে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিরোধের ধারাবাহিকতায় গাজা উপত্যকায় দশ বছরের বেশি সময় ধরে চলা অবরোধের প্রতিবাদে শুক্রবার আবারও বিক্ষোভে নামে ফিলিস্তিনিরা। ওই বিক্ষোভের মধ্য থেকে এক ফিলিস্তিনির ছোড়া গুলিতে সীমান্ত বেষ্টনীর কাছে দুই সেনা আহত হওয়ার দাবি করে ইসরায়েল। এর জবাবে বিমান হামলা চালিয়ে দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনার জেরে শনিবার সকাল থেকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি ভূমি লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া শুরু হয়। ইসরায়েলের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহু রকেট প্রতিহত করতে পারলেও কয়েকটি ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে আঘাত হানে। এসব রকেট হামলায় তিন ইসরায়েলি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধভাবে নির্মিত বসতিতে লাখ লাখ ইসরায়েলি বসবাস করে। তারপরও দখলদারিত্ব সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করে ইসরায়েল। টুইটারে দেওয়া পোস্টে ইসরায়েলের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে ট্রাম্পের পরিকল্পনা মেনে নিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে ১০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে তার ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, মিডল ইস্ট মনিটর।