প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে নুসরাতের প্রবাসী ভাই আরমানের আবেগঘন চিঠি

১২:১৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, মে ৭, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর :: ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত হত্যাকান্ডের শিকার মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের প্রবাসী ভাই আরমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লিখেছেন।

খোলা চিঠিতে তিনি আবেগঘন ভাষায় লিখেছেন, ‘আসসালামুয়ালাইকুম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতেছি যে আমি নুসরাত জাহান রাফির হতভাগা মেজ ভাই আহমুদুল হাসান আরমান, কুয়েত প্রবাসী। আপনার কঠোরতম হস্তক্ষেপে ও অক্লান্ত পরিশ্রমে অল্প সময়ে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার কারায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি।।

শুধু গ্রেপ্তারের মধ্যে সমাপ্ত নয়। আমার প্রিয় বোনকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে যারা আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। আমি মনে করি আর দীর্ঘায়িত না করে অতি দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হোক এবং খুনিদেরকে যেনো দ্রুত ট্রইবুনালের বিচারের আওতায় নিয়ে এসে আদালত রায় প্রধান করে। প্রধানমন্ত্রী ও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আমার আকুল আবেদন যেন স্বল্প-সময়ের ভিতর তা কার্যকর করা হয়।

আজ সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে আছি আমার বোনের হৃদয় কাপানো এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দেখবে বলে..। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এক বুক চাপা কষ্ট নিয়ে আপনাদের প্রতি আকুল আবেদন রইল..!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, একমাত্র বোন নুসরাত জাহান রাফিকে হারিয়ে নিজেকে বড্ড একা মনে হচ্ছে, চোখের পানিগুলো যেন অঝরে ঝরতে থাকে। মায়ের কাছে যখন ফোন দেই মায়ের বুক ফাটা কান্না যেন আকাশ বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে, কি বলে সান্তনা দিব মাকে…?

পরিশেষে এটাই বলতে চাই, একটা স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো অপরাধি অপরাধ করে পার না পায় সেই বিষয়ে আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। সকল দেশবাসীর কাছে আমার বোনের জন্য দোয়া প্রার্থী। আমার বোন কে যেন আল্লাহ তা’আলা জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করে।’

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে জানালে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চারতলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

ওই ঘটনায় গত ৮ এপ্রিল রাতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। গত ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি।
মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর হওয়ার পর তারা ২৩ আসামিকে গ্রেফতার করে। এরমধ্যে ১০ জন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

Loading...