• আজ ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

৮০ বছরের বৃদ্ধা অন্ধ মায়ের স্থান গোয়ালঘরে!

১:১২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, মে ৭, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বৃদ্ধা সরবানু, বয়স ৮০ বছর। ১০ বছর আগে তিনি একদিন মাটিতে পড়ে যান। ব্যথা পান পায়ে। ট্যাবলেট খেয়ে প্রাথমিক চিকিৎসায় ভালোই ছিলেন কিছুদিন। ছিল অর্থের অভাব, ছেলেরা তাই উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি তার। অচল হয়ে যান তিনি ধীরে ধীরে। তারপর একদিন পুরো অন্ধ।

বিপদের শেষ ধাপটা শুরু হয় সরবানুর তখনই। নিজে একা একা চলতে পারেন না, বিছানাতেই সবকিছু সারতে হয় তাই তাকে। সামর্থ্যহীনতা আর অপারগতার মিশেলে ছেলেরা একদিন মাকে রেখে আসেন পাশের পরিত্যক্ত গোয়ালঘরে, একটি ভাঙা চৌকিতে।

জরাজীর্ণ ওই গোয়ালঘরেই সরবানুর কেটে গেছে প্রায় তিন বছর। আধা পেট আর বিনা চিকিৎসায় তার প্রতিদিন। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাঘড়ি গ্রামের ঘটনা এটি।

সরবানু ওই গ্রামের মৃত তাহের মল্লিকের স্ত্রী। পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে সরবানুর ছিল সাজানো সংসার। বড় ছেলে মারা যান কয়েক বছর আগে। মেয়েরা থাকেন শ্বশুরবাড়িতে। বাকি দুই ছেলের অভাবের সংসারে সরবানুর ঠাঁই হয় গোয়ালঘরে।

সরবানুর প্রতিবেশী আকলিমা আক্তার সেলিমা বলেন, মশার কামড়, গরম কিংবা শীতে এখানেই পড়ে থাকেন বৃদ্ধা সরবানু। তার সন্তানরা সচ্ছল নন, কিন্তু মায়ের সেবা তো করতে পারেন। তা না করে দুর্গন্ধে বিরক্ত হয়ে ওই ঘরে রেখে এসেছেন তাকে।

সরজমিনে দেখা যায়, গোয়ালঘরটিতে ময়লা-আবর্জনা, দুর্গন্ধযুক্ত বিছানা। সেখানে প্রায় অর্ধ আবরণে শুয়ে আছেন বৃদ্ধা সরবানু। দুর্গন্ধে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর। বিছানার ওপর রাখা একটি পাত্রে পানি, দুটি মরিচ, খানিকটা লবণ, ময়লাযুক্ত একটি বাটি।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হাওলাদার জানান, আমি ওই বৃদ্ধাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তার স্মরণশক্তি ভালো। বংশীয় পরিবারের সন্তান তিনি। কিন্তু তার সন্তানদের অবহেলা ও অবজ্ঞার জন্যই আজ তার এই দুরবস্থা।