‘শরবত খাওয়ানোর চেষ্টার পর জুরাইনে পানি সংকট বেড়েছে’

৪:৫১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, মে ৭, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) শরবত খাওয়ানোর চেষ্টার পর থেকে জুরাইন এলাকায় পানির সংকট বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওয়াসার নিরাপদ পানি আন্দোলনের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নিরাপদ পানি: ওয়াসার দাবি ও জনগণের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক গণশুনানির আয়োজন করা হয়।

গণশুনানিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ওয়াসার বিশুদ্ধ পানির দাবিতে আন্দোলনকারী, গণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নগর পরিকল্পনাবিদ, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ওয়াসার নিরাপদ পানি আন্দোলনের আয়োজনে এই গণশুনানির সঞ্চালনা করেন জুরাইনবাসী মিজানুর রহমান।

এসময় তিনি বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন পানির সংকট অনেক বেশি। এই সংকট দ্রুত সমাধান করতে হবে। পানি সংকটের কারণে যদি এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি ও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটে, এর দায় সরকারকে নিতে হবে।

ওয়াাসার নিরাপদ পানির আন্দোলনকারীদের একজন রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘নিরাপদ পানি বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে দেব, এই চিন্তা ভেঙে দিয়েছে এডিবি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকগুলোর মতো ঋণদানকারী সংস্থা। আর তাদের প্রকল্প। ওয়াসার এমডিকে নিয়ে বিশাল গুণগান কারা গাইছে? এই এডিবি। আবার এডিবির তথ্যসমৃদ্ধ বক্তব্য প্রচার করছেন ওয়াসার এমডি। যারা আমাদের এই পানিতে অনভ্যস্ত করে বোতলের পানিতে অভ্যস্ত করতে চায়, পানির বাণিজ্যিকীকরণ নিশ্চিত করতে চায়, তাদেরই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ওয়াসা। এজন্য তারা আমাদের নিরাপদ পানি দিতে ব্যর্থ হয়।’

শুনানিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ জানান, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। কোকাকোলা এখন কোক বিক্রির বদলে বাংলাদেশে পানি বিক্রির চিন্তা করছে। এসব কারণে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করার পরও ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ হচ্ছে না। পরিকল্পিতভাবেই এগুলো করা হচ্ছে।

প্রকল্পের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখন একটা প্রকল্প নেয়া হচ্ছে, মেঘনা নদী থেকে পানি আনা হবে। এতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাতে অর্থ দেবে। এই এডিবি, বিশ্বব্যাংক যারা বাংলাদেশকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে, সেই ঋণের যে নীতিমালা হয়েছে, যে পরিকল্পনা হয়েছে, এই পরিকল্পনা-নীতিমালা সম্পর্কে আপনারা একজনও কি আছেন, যারা জানেন সেখানে কী আছে? ওই দলিলপত্র কী আপনাদের দেখা আছে? ওই দলিলগুলো বাংলাদেশের মানুষ দেখে না। এই ঋণের টাকা আমাদের শোধ করতে হয়। আপনি সামনের বাজেটে দেখবেন, ঋণের সুদ বাবদ কত টাকা ব্যয় হয়। ঋণের সুদ বাবদ যে টাকা ব্যয় হয়, আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের চেয়ে বেশি। ওইসব সুদ, এসব ঋণের সুদ।’

আনু মুহম্মদ বলেন, ‘ওয়াসা যদি শতভাগ সুপেয় পানি দেয়, তাহলে তো মিজানের (জুরাইনের সুপেয় পানির আন্দোলনকারী) ভয়ে ওয়াসার কর্মকর্তাদের অফিস থেকে পালানোর কথা নয়। আপনাদের সুপেয় পানি তো আপনাদেরই খাওয়ানো হবে। শতভাগ সুপেয় পানি ওয়াসার এমডি যে দাবি করেছে, এটা ওয়াসার একক দাবি নয়।