• আজ ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

থানায় ঢুকেই বললো, ‘স্যার আমাকে অ্যারেস্ট করে জেলে দিন’!

৭:৪৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, মে ৭, ২০১৯ ঢাকা

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক- তারা মিয়া। বয়স ১৯ বছর। থাকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার সিটিপল্লীতে। সড়কের পিচ ঢালাইয়ের শ্রমিক। দিন হাজিরা যা পায়, তার প্রায় সবটাই খরচ হয় ইয়াবা সেবনে। টানা দুই বছর ইয়াবায় আসক্ত থাকার পর এখন সে ওই পথ থেকে বের হতে চায়। মাদক ছাড়তে কারাগারে বন্দি থাকা ‘নিরাপদ’ মনে করে এই তরুণ।

কিন্তু তার বিরুদ্ধে তো কোনো মামলা নেই, কীভাবে বন্দি হিসেবে কারাগারে থাকতে পারবে- এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে ভাবছিল তারা মিয়া। একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয়-স্বেচ্ছায় থানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবে।

রোববার সন্ধ্যায় পুরনো কাপড়ে পেঁচানো চাপাতি হাতে দ্রুতবেগে হাজির হয় যাত্রাবাড়ী থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে। ডিউটি অফিসারকে বলে, ‘আমাকে অ্যারেস্ট করে জেলে দিন। আমি জেলে যাবো।’ এরপরই হাতে থাকা চাপাতিটা ডিউটি অফিসারের সামনে রাখে। স্বেচ্ছায় গ্রেফতারের কথা শুনে বিষ্মিত হয়ে হয়ে পড়েন ডিউটি অফিসার এসআই জহির।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদকাসক্ত বন্ধুদের সংস্পর্শে এসে দুই বছর আগে তারা মিয়া গাঁজা সেবন শুরু করে। এরপর ইয়াবা। বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে সিটিপল্লীতে থাকে সে। তার বাবাও সড়কে পিচ ঢালাইশের শ্রমিক। তারা মিয়ার একজন পরিচিত মাদকসেবী সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। কারাবন্দি থাকার পর জামিনে বের হয়েছে সেই মাদকসেবী। তবে এখন সে পুরোপুরি সুস্থ। স্ত্রী নিয়ে সংসার করছে। একটা চাকরিও করে। মাদক সেবন করছে না। কারাবন্দি থাকার পর ওই ব্যক্তি মাদক থেকে দূরে রয়েছে। তাকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছে তারা মিয়া।

পিচ ঢালাইয়ের কাজ করা অষ্টম শ্রেণি পাশ এই ছেলেটি দৈনিক ৭০০ টাকা রোজগার করে ৬০০ টাকাই খরচ করে নেশার পিছনে। আয় করা টাকা নেশার পিছনে খরচের কারণে একই পেশার বাবাকে কিছুই দিতে না পারা আর ছোট ভাইটির পড়ালেখার খরচ দিতে না পারায় সে এক ধরনের আত্মদহনে ভুগছে। তাই সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে এসেছে থানায়।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ বলেন, জেলে গেলেই যে কেউ নেশা ছেড়ে দিবে সেটা সবসময় সত্য নাও হতে পারে, বা বেশিরভাগ সময় বিপরীতটাই হয়। তারপরও ছেলেটি নেশামুক্ত হওয়ার জন্য আত্মোপলব্ধি করেছে, ভালো হওয়ার জন্য নিজের মনকে বসে আনতে পেরেছে সেটাই বা কম কি! ছেলেটিকে নেশামুক্ত করার জন্য একটু ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে দেখি। জেলখানা ছাড়াই কিভাবে ওকে ভালো করা যায়