স্কুলের মোট পরীক্ষার্থী ৬ জন, ৬ জনই ফেল!

১০:২৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, মে ৭, ২০১৯ রংপুর

অনিল চন্দ্র রায়,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়ায় নতুন প্রতিষ্ঠিত দাশিয়ার ছড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ফরম পূরণ করেছিল আট জন শিক্ষার্থী। বাল্য বিয়ের কারণে ২ জন পরীক্ষায় অংশ নিতেই পারেনি। বাকি ছয় জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও পরীক্ষা চলাকালীন আরও একজনের বিয়ে হয়ে যায়। বাকি ৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা শেষ করলেও তাদের মধ্যে কেউই পাশ করতে পারেনি।

চলতি বছর এই বিদ্যালয় থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই কৃতকার্য হতে পারেনি।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ছিটমহল বিনিময় আন্দোলনের সাবেক নেতা গোলাম মোস্তফা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দিনাজপুর বোর্ডের ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, এবারে এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর বোর্ডর অধীন কুড়িগ্রাম জেলায় মোট ৩শ’ ৮টি প্রতিষ্ঠান হতে পরীক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে সকল প্রতিষ্ঠান হতে কম বেশি পরীক্ষার্থী পাশ করলেও দাশিয়ার ছড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কোনও শিক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি।

ফল বিপর্যয় নিয়ে কথা বলতে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ছিটমহল বিনিময় আন্দোলনের সাবেক নেতা গোলাম মোস্তফা বলেন, বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়ায় এখনও বাল্য বিয়ের প্রচলন চালু রয়েছে। আমরা এখানকার মেয়েদের শিক্ষিত করার আশা নিয়ে আলাদা করে বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পাশ করার আগেই মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। আর বিয়ের পর তারা আর পড়াশোনা চলমান রাখতে পারছে না। এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয় থেকে ৮ জন পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও তিন জনেরই বিয়ে হয়ে যায়।

বাকি ৫ জন অকৃতকার্য হওয়ার কারণ জানতে চাইলে গোলাম মোস্তফা আরও জানান, ‘এতে হয়তো বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও কিছু দূর্বলতা থাকতে পারে। পরবর্তীতে যাতে এমন না হয় সেজন্য আমরা এখন থেকে উদ্যোগ নেব।’

দাশিয়ারছড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চলতি বছর দশম শ্রেণিতে ১৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে যারা ২০২০ সালে এই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে জানিয়ে গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বর্তমানে দশম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত ১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ জনের বিয়ে হয়ে গেছে। আগামী পরীক্ষা আসতে আসতে আরও কয়জনের বিয়ে হবে কে জানে! বাল্য বিয়ে রোধে আমরা স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করলেও কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে বাল্য বিয়ের কারণে মাধ্যমিক স্তরেই এখানকার মেয়েরা শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ছে।’

ফুলবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ‘উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর পাশের হার নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো। এক্ষেত্রে যেসব বিদ্যালয়ে পাশের হার শূন্য তাদের ব্যাপারেও আমরা প্রতিবেদন তৈরি করে পাঠাবো। পরবর্তীতে যাতে এমন ফল বিপর্যয় না হয় সেদিকে নজর দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, ছিটমহল বিনিময় কার্যকর হয়ে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলাধীন দাশিয়ারছড়ায় তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পাঠদানের অনুমতি পায়। এর মধ্যে মঈনুল হক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কোনও শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। দাশিয়ারছড়া সমন্বয়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে ৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ছয় জন কৃতকার্য হয়েছে। আর দাশিয়ার ছড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কেউই পাশ করতে পারেনি।