স্ত্রীকে তালাকে বাধ্য: কোলের সন্তান ফিরে না পেয়ে বুক ফাঁটা আহাজারি করছে মা

১১:২০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, মে ৮, ২০১৯ দেশের খবর, রংপুর

আব্দুল করিম সরকার, পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি- রংপুরের পীরগঞ্জে স্ত্রীকে জোরপূর্বক জিম্মি করে তালাকের কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় ৯ মাসের কন্যা শিশু সন্তানকেও আটকে রেখেছে তারা।

এদিকে সন্তান উদ্ধারের মামলা দায়েরের ৪ মাসেও সন্তান ফিরে না পেয়ে বুক ফাঁটা আহাজারি করছে মা। ঘটনাটি ঘটেছে কাবিলপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে।

মামলা ও ঘটনার বিবরণে জানাগেছে, শ্রীরামপুর গ্রামের সাদা মিয়ার কন্যা সাথী বেগম এর সাথে বিগত ৫ বছর পূর্বে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক একই গ্রামের রায়হান মিয়ার ছেলে মোহন মিয়া সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সংসার জীবনে তারা ২ সন্তানের জনক-জননী।

গেল বছর যৌতুক লোভী স্বামী মোহন মিয়া ১ লাখ টাকা দাবি করে। সাথীর হতদরিদ্র ভ্যান চালক পিতা সাদা মিয়া যৌতুকের ১ লাখ টাকা দিতে না পারায় গত ১৮ নভেম্বর ২০১৮ইং তারিখে জোরপূর্বক লোকজন দিয়ে সাথীকে ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান সু-কৌশলে পরিষদে নিয়ে গিয়ে একটি সাদা ও সবুজ রঙ্গের কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তার সন্তান দুটি কেড়ে নিয়ে তাকে পিতার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

সাথী অনেক কাকুতি মিনতি করেছিল তার ৯ মাসের কোলের সন্তানটিকে কাছে রাখতে, কিন্তু পাষন্ড স্বামীর বাড়ির লোকজন তার কথায় কর্ণপাত করেনি। পরবর্তীতে সাথী জানতে পারে তাকে তালাকের কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সাথী বেগম বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুরীসহ ৫ জনকে আসামী করে পীরগঞ্জ আমলী আদালত রংপুরে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। যার নং ১৮২/১৮। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পীরগঞ্জ থানায় প্রেরণ করেন।

তার দু’দিন পর আবারো সাথী বেগম তার ৯ মাসের শিশু সন্তানকে ফিরে পেতে বিজ্ঞ আদালতে একটি ১০০ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের ৪ মাস অতিবাহিত হলেও তার শিশু সন্তানকে পাষন্ড যৌতুক লোভী স্বামীর কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মুখ থুবড়ে পরেছে মানবতা, কোলের সন্তান ফিরে না পেয়ে মায়ের বুকফাটা আহাজারি দেখার যেন কেই নেই।

এ ব্যাপারে কথা হয় ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম লাজুর সাথে। তিনি জানান ভিন্ন কথা, “উভয় পরিবারের সম্মতিতেই তালাক হয়েছে। তবে ৯ মাসের শিশু সন্তানটি কার কাছে তা আমি জানিনা।”

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি জানান, উভয় পক্ষের স্বাক্ষর এর মাধ্যমে তিনি তার স্বামীকে তালাক দিয়েছেন।

এদিকে সাথীর হতদরিদ্র ভ্যান চালাক পিতা সাদা মিয়ার দাবি আমার কন্যার কোলের সন্তান দুটিকে ফিরে দেয়া হোক। অনেক কষ্ট করে মেয়েটিকে বিয়ে দিয়ে ছিলাম। ১ লাখ টাকা যৌতুক দিতে পারিনি বলে তারা আমার মেয়েকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছে, আমি এর সু-বিচার চাই।