এক পিস জিলাপির দাম ৪০০ টাকা!

১২:৩৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, মে ৮, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতার সামগ্রীর দেশজুড়েই পরিচিত। বাহারি সব খাবারের সন্ধানে বরাবরের মতো ভোজনরসিকদের প্রধান গন্তব্য এখানেই। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম রোজায় চড়া দামেই বাহারি সব ইফতার কিনে ঘরে ফিরেছেন তারা।

দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর অলিগলি, বড় সড়ক সবখানেই শুরু হয় ইফতারের হাঁকডাক। হোটেল-রেস্তোঁরা, মসজিদ, বিপণিবিতানের আশপাশ, বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার ফুটপাতসহ পুরো রাজধানী পরিণত হয় বড়-ছোট ইফতারি বাজারে। প্রতিটি সড়কের পাশে শামিয়ানা টানিয়ে বসে ইফতারের পসরা। বিকেলের আগেই শুরু হয়ে যায় ভাজাভাজি। তপ্ত কড়াই থেকে ছেঁকে ছেঁকে তোলা হতে থাকে বেগুনি, পেঁয়াজু, চপ, জিলাপিসহ নানা পদের খাবার। পাশেই টেবিল পেতে চলে বিক্রি। দোকানের যেমন গোনাবাছা নেই, ক্রেতাও তেমনি অগুনতি।

এবারও প্রধান আকর্ষণ সেই চকবাজার। দেড়শ’ বছরের পুরনো এই ইফতারি বাজারে দুপুরের পর থেকেই ক্রেতার সমাগম শুরু হয়। বিকেল ৪টার পর ভিড় উপচে পড়ে। ভিড়ের বিচারে চকের পরই ছিল বেইলি রোডের অবস্থান। চকবাজারে ছিল ঐতিহ্য, আর বেইলি রোডে আভিজাত্যের ছোঁয়া।সরেজমিনে দেখা যায়, চকবাজার শাহি মসজিদের সামনের রাস্তায় বরাবরের মতো যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বড় বাপের পোলায় খায়, সুতি কাবাব, রোস্ট, পায়া, কিমা, শাহি পরোটা, কিমা পরোটা, শাহি জিলাপিসহ শতাধিক পদ বিক্রি হয় এখানে।

ইফতারির একটি জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে রসে টইটুম্বুর জিলাপি একটি। আমরা সাধারণত ছোট জিলাপি দেখেছি যার মূল্য সর্বোচ্চ ১০ টাকা কিন্তু ৪০০ টাকার ঢাউস সাইজের শাহী জিলাপি হয়ত সব সময় চোখে পড়ে না। যা একমাত্র চোখে পড়বে চকের ইফতারির বাজারেই।

সাধারণ জিলাপি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি, শাহী জিলাপি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি আর ঘিয়ে ভাজা জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি।

চকবাজারে প্রায় ২০ বছর ধরে শাহী জিলাপি বিক্রি করেন নাজিমউদ্দিন। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে তিনি এবার তৈরি করেছেন দুই কেজি ওজনের জিলাপি। প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে তিনি এক পিস জিলাপি বিক্রি করছেন ৪০০ টাকায়।

বড় আকারের এই জিলাপির পাশাপাশি ছোট আকারের জিলাপিও বিক্রি করছেন নাজিমউদ্দিন। ২৫০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের এসব জিলাপির কেজিও ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আমাদের শাহী জিলাপি পছন্দ করে না এমন লোক নেই। এক সময় আমরা ৬০ টাকা কেজি দরে জিলাপি বিক্রি করেছি। কিন্তু সবকিছুর দাম বাড়ার কারণে এখন ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, চকের ইফতারি বাজার এখন আগের মতো ওত জমজমাট না। তারপরও ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে ইফতারি কিনতে আসে। আমরাও ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতি বছর এখানে রোজাদারদের জন্য জিলাপি বিক্রি করি।