• আজ ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রমজানেই মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া!

২:০২ অপরাহ্ণ | বুধবার, মে ৮, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

মহিবুল্লাহ্ আকাশ :: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টিতে তিনি জামিনে রয়েছেন। বাকি ৪টিতে জামিন পেলে মুক্তি পেতে পারেন তিনি। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে পথ চলা বিএনপি রাজপথেও নানা কর্মসূচি পালন করছে। দলের সিনিয়র নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইন কোনো বাধা নয়, এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। সরকারই তাকে আটকে রেখেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির ইস্যূ ছাড়া গত এক বছরে কোন ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করেনি বিএনপি। তারা দেশের মানুষের কথা না বলে শুধু তাদের নেত্রীর মুক্তিই চায়। ফলে, তাদের ডাকে আন্দোলন সংগ্রামে সাধারণ মানুষের কোন অংশগ্রহণ ছিল না। দলের নেতা-কর্মীরাও মুখ ফিরিয়ে নেয়।

সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৬ জনের সংসদে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে দলটির মধ্যে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। পুলিশী হয়রানির ভয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়েকে নিজের বাড়ি-ঘর বানানো বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সংবাদ সম্মেলন করে এক কথা বলেন তো বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্য কথা বলেন।

এসব নাটকীয়তায় সংসদে না যাওয়া ঘোষণা না দেয়া বিএনপি থেকে নির্বাচিত ৬জনের মধ্যে সর্বপ্রথম ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি জাহিদুর রহমান শপথ নিলে তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরে বাকী ৪ জন ৩০ এপ্রিল শপথ নিলে আবার এটাকে দলের সিদ্ধান্ত বলা হয়। কিন্তু মির্জা ফখরুল সংসদে যাননি।

পরে দলের সিদ্ধান্তে বিএনপির ৪ জন সংসদে গেলে ফখরুল কেন শপথ নিলেন না- তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির দুর্যোগকালীন ডাকসাইটে নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

সর্বশেষ এসব নাটকীয়তায় নাক সিটকে ৬ মে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায় আন্দালিব রহমা পার্থ’র নের্তৃত্বাধীন দল বিজেপি। এরপর বিএনপিকে ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়ে রেখেছে আরেক শরীক লেবার পার্টিও।

এসবের মাঝেই নতুন খবর হলো, রমজানে বা রমজানের পরপরই মুক্তি পেতে পারেন ১৫ মাস ধরে কারাবন্দী খালেদা জিয়া। বিএনপির হাইকমান্ড ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এরকম আভাস পাওয়া গেছে। তবে তার মুক্তি জামিনে, না বিকল্প কোন পন্থায় হবে তা স্পষ্ট নয়। প্যারোলো মুক্তি নেয়াকে বিএনপির নেতারা অসম্মানজনক মনে করলেও সব কিছু নির্ভর করছে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, বেগম জিয়া খুবই অসুস্থ। তিনি শুকিয়ে গেছেন। দেখলে চোখে পানি আসে। এ অবস্থায় তাকে বাঁচাতে সুচিকিৎসা প্রয়োজন। কোন পথে তার মুক্তি হবে সেটা বড় কথা নয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা দেশনেত্রীর মুক্তির প্রহর গুনছি। আশা করছি, তিনি শিগগিরই আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পাবেন। গত সপ্তাহে জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় খালাস চেয়ে বেগম খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণ ও অর্থ দণ্ড স্থগিত করার বিষয়টিকেও ইতিবাচকভাবে দেখছেন আইনজীবীরা। তারা বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় শিগগিরই জামিন ফাইল করা হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রভাবশালী দেশের হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ মধ্যস্থতা করছে বলে শোনা যাচ্ছে। অসমর্থিত ওইসব সূত্র বলছে, বেগম জিয়া মুক্তি পেলেও সব কিছু স্বাভাবিক থাকবে, এভাবে সরকারকে আশ্বস্ত করেই দূতিয়ালি করা হচ্ছে। কোন কোন মহল থেকে এও শোনা যাচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়া শিগগির মুক্তি না পেলেও, তাকে বঙ্গবন্ধু হাসপাতাল থেকে আর কারাগারে পাঠানো হবে না। সে ক্ষেত্রে তার গুলশানের বাসাকে সাব-জেল ঘোষণা করে, সেখানে পাঠিয়ে দেয়া হতে পারে।