সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত দম্পত্তির হাতে বাংলাদেশী গৃহকর্মী নির্যাতন! নিউজিল্যান্ডের আদালতে সাজা

৭:১১ অপরাহ্ণ | শনিবার, মে ১১, ২০১৯ প্রবাসের কথা, স্পট লাইট
jail-Bangladeshi--husband-wife

প্রবাসের কথা ডেস্ক-: গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এক দম্পতিকে সাজা দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের একটি আদালত। মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম ও নাফিসা আহমেদ নামের বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ওই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে তাদের নামমাত্র পারিশ্রমিকে কাজ করাতেন ও বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন।

এই দম্পত্তির বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতন ছাড়াও মানবপাচারের অভিযোগ ছিলো তবে দীর্ঘ শুনানির পর মানবাপাচারেরে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় শুধুমাত্র কর্মচারী নির্যাতনের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সাজা দেন নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড জেলা আদালত।

দেশটির স্থানীয় গনমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সুত্রে, মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম ওরফে কাফি ইসলাম (৪০) এর বিরুদ্ধে শ্রমিক নির্যাতনের ১০টি, অভিবাসন সংক্রান্ত সাতটি ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টার তিনটি অপরাধ প্রমাণিত হয়।

অন্যদিকে তার স্ত্রী নাফিসা আহমেদ (৩০) পেশায় হিসাবরক্ষক। তার বিরুদ্ধেও যৌথভাবে পাঁচ কর্মচারীকে সাতটি নির্যাতনের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়। এসকল ঘটনায় দুই কর্মচারীকে ধোঁকা দিয়ে দেশটিতে নিয়ে যাওয়াসহ আতিকুল ও নাফিসার বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি অভিযোগ আনে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড (আইএনজেড)। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচারেরও অভিযোগ ছিল। তবে আদালতে দীর্ঘ শুনানির পর এ অভিযোগ থেকে মুক্তি পান তারা।

এ দম্পতির রয়েল সুইট ক্যাফে নামে মিষ্টি জাতীয় খাবারের দোকান রয়েছে। এটি অনেকের কাছেই রয়েল বেঙ্গল ক্যাফে নামেও পরিচিত। ওই দোকানের দুই শেফ নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দুর্দশা জানিয়ে অভিযোগের পরই কর্মচারী নির্যাতনের এ ঘটনা সামনে আসে।

ভুক্তভোগী ঐ কর্মচারীর জবানবন্দীতে জানা যায়, বাংলাদেশে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে ওই দুই শেফ নিউজিল্যান্ড যান। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তাদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করেন আতিকুল ও নাফিসা।

ভুক্তভোগী বাংলাদেশী  দুই শেফের ওপর দিনের পর দিন অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।

ক্রাউন প্রসিকিউটর জ্যাকব প্যারি ভুক্তভোগীদের জবানবন্দীর বরাত দিয়ে আদালতে বলেন, ক্যাফের কর্মচারীরা টানা কাজ করে গেলেও তাদের মাত্র এক ঘণ্টার ছয় ডলার পরিশোধ করা হতো। বাকি সময় বা ছুটিরদিন কাজের জন্য তারা কোনো মজুরি পাননি। এভাবে দুই বছর ধরে তাদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে।

‘আতিকুল ও নাফিসার পরামর্শে ওই কর্মচারীরা অস্থায়ী ভিসা নিয়ে এসেছিলেন। তাদের আইনে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও অনেক বেশি কাজ করানো হয়েছে।’

টানা কাজ করায় কয়েকজন ভুক্তভোগীর হাত-পা ফুঁলে গেছে বলেও জানান জ্যাকব প্যারি।

ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এক শ্রমিক ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো মারাই যাবেন। আরেকজন জানিয়েছেন, বাংলাদেশে থাকতেও তাদের এত বেশি কাজ করা লাগেনি।

দুই অভিযুক্তকে সাজা দেবার পর বিচারক গিবসন বলেন, উচ্চ শিক্ষিত আতিকুল ও নাফিসার এক পুত্র সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিউজিল্যান্ডে ব্যবসা করা এ দম্পতি দেশটির শ্রম আইন সম্পর্কেও আগে থেকেই জানতেন।

তিনি বলেন, আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণাদিতে দেখা গেছে, ব্যবসায়িক লাভের আশায় এ দম্পতি সুপরিকল্পিতভাবে কর্মচারীদের নির্যাতন করেছেন।

নিজ দেশের মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত স্বার্থান্বেষী ও লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন বিচারক।’